লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি কমে গেলে এখনো তিস্তাপারের নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকাগুলোর রোপা-আমন ক্ষেতগুলো বন্যার পানিতে ডুবে রয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে যদি পানি কমে না যায় তাহলে উঠতি ধান ক্ষেতের চারা গুলো পচে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এতে জেলায় রোপা-আমনে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার রোপা-আমন ক্ষেতগুলোর। এ ছাড়া গবাদি পশু-পাখির খাবারও সংকট দেখা দিয়েছে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে।

আকস্মিক তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তিস্তাপারের মানুষ। সম্প্রতি কয়েক দফা বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আবারও বন্যা পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তারা। তিস্তার পানি দ্রুত হ্রাস না পেলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে তারা জানিয়েছেন। গেল দুই মাসে তিনটি বন্যা পরিস্থিতির ধকল এখনও কাটিয়ে ওঠতে পারিনি তিস্তা পাড়ের লোকজন।

হাতীবান্ধা উপজেলার হলদিবাড়ী গ্রামের কৃষক সাদেকুল ইসলাম বলেন আমার ৫ বিঘা জমির রোপা-আমন ধানের চারা পানির নীচে তলিয়ে গেছে। সময়মতো বানের পানি নেমে না গেলে রোপা-আমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন অসময়ে আমরা আরও একটি বন্যা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। আর এ ফসল নষ্ট হয়ে গেলে আমরা দুর্বিসহ জীবনে পড়ে যাবো।

হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তার চর গড্ডিমারী মমিনুর রহমান বলেন আকস্মিক তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আমাদের বাড়ি-ঘর বানের পানির নীচে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘর ছেড়ে গবাদি পশু-পাখি আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আমরা কোনোরকমে নিরাপদ আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছি।

হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনর রশিদ জানান এ উপজেলায় রোপা-আমনে ১৯ হাজার ৪ শত ৮৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ শত হেক্টর ধান ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে যায়। তবে ইতোমধ্যে পানি নেমে গেছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিধুভূষণ রায় জানান তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় তিস্তাপারের নিম্নাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ চর এলাকার রোপা-আমন ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে রোপা-আমনের তেমন ক্ষতি হবে না, তবে সবজির ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য