ইন্দোনেশিয়ার বিক্ষুব্ধ অঞ্চল পশ্চিম পাপুয়ায় চলমান বিক্ষোভের একদিনেই অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছে। কয়েকটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বেশিরভাগ মানুষ নিহত হয়েছে। বর্ণবাদী মন্তব্যের জেরে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঘটনায় সোমবার আলাদা দুটি শহরে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে নিহতের সংখ্যা আরও আড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ। সহিংসতার জন্য বিভিন্ন স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলাকে দায়ী করেছে তারা।

গত মাসে সুরাবায়ায় স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনে পাপুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার পতাকা নষ্টের অভিযোগ তোলে একটি জাতীয়তাবাদী গ্রুপ। ওই গ্রুপটি শিক্ষার্থীদের ‘বানর’, ‘শুকর’ ও ‘কুকুর’ বলে অভিহিত করলে বিক্ষোভ শুরু হয়। ব্যাপক বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত শান্ত হয়ে আসার পর সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটলো।

সোমবার ওয়ামেনায় নিহত হয়েছে অন্তত ২৩ জন। এদের মধ্যে বেশ কয়েক জন জ্বলন্ত ভবনে আটকা পড়ে নিহত হয়। মঙ্গলবারও এসব ভবনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এতে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রাদেশিক রাজধানী জয়াপুরায় পৃথক ঘটনায় আরও চার ব্যক্তি নিহত হয়। সেখানে সংঘবদ্ধ শিক্ষার্থীরা এক সেনা ও পুলিশ সদস্যের ওপর রামদা ও পাথর নিয়ে হামলা চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার পাপুয়ার আঞ্চলিক রাজধানী ওয়ামেনা ও জয়াপুরায় আলাদা সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পশ্চিম পাপুয়ার একটি স্বাধীনতাকামী গ্রুপের এক মুখপাত্র জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এক শিক্ষকের বর্ণবাদী মন্তব্যের জেরে ওয়ামেনায় সহিংসতা শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই স্কুল শিক্ষার্থী। তবে পাপুয়া পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করে একে ধাপ্পাবাজি বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কেয়কটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

পাপুয়ার সেনা মুখপাত্র একো দারিয়ান্তো বার্তা সংস্থা এফপিকে বলেছেন সোমবারের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। বহু বেসামরিক মানুষ জ্বলন্ত ভবনে আটকা পড়ে বলে জানান তিনি। স্থানীয় সামরিক কমান্ডার চন্দ্র ডিয়ান্তো বলেন, নিহতদের কেউ কেউ আগুনে পুড়েছে আবার কাউকে কাউকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ প্রায় সাতশো জনকে নিয়ে আসলেও বেশিরভাগকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জয়াপুরায় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ছবিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বহু পুলিশ জড়ো হতে দেখা গেছে। সেনা মুখপাত্র একো দারিয়ান্তো দাবি করেন সংঘবদ্ধ শিক্ষার্থীরা এক সেনা ও পুলিশ সদস্যের ওপর রামদা ও পাথর নিয়ে হামলা চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে তিন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়। পরে ওই সেনা সদস্য মারা যায়।

প্রসঙ্গত, নেদারল্যান্ডের সাবেক উপনিবেশ ১৯৬৩ সালের আগ পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার অংশ ছিলো না। ১৯৬৯ সালে এই অঞ্চলের স্বাধীনতার দাবিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মাত্র এক হাজার মানুষকে ওই গণভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে সীমিত মাত্রায় সেখানে এখনও স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চলছে। ওই অঞ্চলে ভিন্নমত দমনে ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য