ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চে অগ্রাধিকার দেয়া হয় কেননা এটি একটি ইসলামি শরীয়তি বিধান এবং এ ব্যাপারে অন্যের উপদেশের প্রয়োজন ইরানের নেই।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ইরান বিরোধী প্রস্তাব গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “এটি একতরফা, এক পাক্ষিক, বাস্তবতা বিবর্জিত ও হতাশাজনক প্রস্তাব। এমন সময় ইরান বিরোধী প্রস্তাব গৃহীত হল যখন আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরানের আট কোটি মানুষের অধিকার পদদলিত করেছে।” ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরো বলেছেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তেহরান বিরোধী প্রস্তাব থেকে বোঝা যায়, “ইরানের বাস্তবতাকে তারা আজো চিনতে পারেনি। তারা কেবল মিথ্যা, অনির্ভরযোগ্য ও ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইরানকে অভিযুক্ত করছে।” ইউরোপীয় পার্লামেন্ট গত বৃহস্পতিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করে প্রস্তাব পাশ করে। প্রস্তাবে ইরানে নারী অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়।

বহু বছর ধরে মানবাধিকার বিষয়ে পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে পাশ্চাত্যে নারীদের অবস্থানের বিষয়ে দুঃখজনক তথ্য পাওয়া যায়। পাশ্চাত্যে নারীদেরকে পুরুষের সমান মর্যাদাতো দেয়া হয় না বরং নারীদের প্রকৃতি ও মানবিক বিষয়টিকেও উপেক্ষা করা হয় এবং নারীরা কেবল ব্যবহার্য পণ্যের মতো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গণমাধ্যম বিষয়ক কর্মকর্তা ইনকা ফ্লাঞ্জবার্গ বলেছেন, পাশ্চাত্য সমাজের বহু নারী তাদের ব্যাপারে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তারা লজ্জিত ও অপমান বোধ করছে। ফলে তারা নীরব থাকে। এ ছাড়া, অনেক নারী তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ব্যাপারেও কোনো কথা বলে না।”

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গত কয়েক দশক ধরে পাশ্চাত্যের দেশগুলো নারী অধিকার রক্ষার কথা বলে প্রতারণামূলক সুন্দর সুন্দর শ্লোগান দিচ্ছে। কিন্তু তারা নারী অধিকার রক্ষায় কোনো ব্যবস্থাতো নেয়নি বরং সমাজের অর্ধেক নারীকে দুর্বল করে রেখেছে। পাশ্চাত্যের দৃষ্টিতে মানবাধিকার বলতে কেবল নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারকে বোঝা যায়। কিন্তু সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, নারীর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য মূল্যবোধের কোনো গুরুত্ব পাশ্চাত্য সমাজে নেই।

পাশ্চাত্য মানবাধিকার বিষয়টিকে তাদের মালিকানাধীন ও একক বিষয় বলে মনে করে। এ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পাশ্চাত্যের দেশগুলো মানবাধিকার বিষয়টিকে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি এবং অন্য দেশের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এ কারণে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মানবাধিকার ইস্যুতে পাশ্চাত্যের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ইরান বিরোধী প্রস্তাবকে দ্বিমুখী নীতির বহি:প্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন।

দুঃখজনকভাবে বহু দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। কিন্তু পাশ্চাত্য মানবাধিকারকে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের কাজে ব্যবহার করায় দেশে দেশে অপরাধযজ্ঞ বেড়েই চলেছে। মানবাধিকার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকাণ্ড মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এ ব্যাপারে কথা ও কাজে কোনো মিল নেই। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ইরান বিরোধী প্রস্তাব এর ব্যতিক্রম নয় এবং তারা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

-পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য