সাংবাদিক সম্মেলনঃ দিনাজপুর প্রেসক্লাব নিমতলা কার্যালয়ে দূর্বিত্তদের ছোড়া এসিডে ঝোলসে যাওয়া মোছাঃ জোহর নেগার (৩৫), স্বামী মোঃ আবেদ আলী, সাং-রাজপুর, থানা-কাহারোল, জেলা, দিনাজপুর।

সোমবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত অভিযোগ করেছেন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বাগপুর গ্রামের মো: আবেদ আলীর স্ত্রী এসিড আক্রান্ত নারী জোহের নেগার। সংবাদ সম্মেলনে তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষা নবীস আইনজীবি মো: দুলাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১১ আগষ্ট ২০১৯ বাগপুর গ্রামের বাড়িতে রাত্রী আড়াইটার দিকে ঘুমুন্ত অবস্থা থেকে ডেকে তুলে একই গ্রামের মৃত: রজব আলীর পুত্র আসামী গনি মিয়া ও আহের আলী এবং ইব্রাহীমের পুত্র মো: তোজাম্মেল আমাকে ঘর হতে বের হতে বলে। ঘর থেকে না বের হলে কেরোসিন ঢেলে ঘরে আগুন জ্বালিয়ে সবাইকে পুড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকী দেয়, তখন আমি বাধ্য হয়ে ঘর থেকে বের হলেই গনি মিয়া তার হাতে থাকা এসিড আমার উপর নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়।

এসিড আক্রান্তের ফলে আমার সমস্ত শরীর ঝলসে যায়,চিতকার চেচামেচি শুনে সবাই আমাকে উদ্ধার দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্ত্তি করে দেয়, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল রের্ফাড করে সেখান থেকেও আমাকে রের্ফাড করে ঢাকায় ডিএসসিএইচতে। সেখানকার চিকিতসকের পরামর্শে আমাকে এসিড সার্ভাইভ ফাউন্ডেশনে ভত্তি করা হলে ১৮ আগষ্ট হতে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩টি করে মোট ১২টি অপারেশন করেছেন চিকিতসকরা।

এব্যাপারে আইনজীবির মাধ্যমে কাহারোল থানায় মামলা করা হয়েছে মামলা নং ৫ তাং ২০/০৮/২০১৯ইং,ধারা এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ এর ৫(ক)/(খ),জিআর নং-৬৭/১৯। পুলিশ মামলার বিষয়ে জবানবন্দী নিয়েছে এবং তদন্ত করেছে কিন্তু আসামী ধরছেনা। আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা উল্টো আমাদেরই বাড়ি ছাড়া করেছে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি তারই নিজ বাড়িতেই ফিরতে পারছিনা। আমরা সরকারের আইনী সহায়তার জন্যে সংশ্লীষ্ট প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগনের সাহায্য চাই।

তিনি বলেন,মামলা হওয়ার এতদিন পরেও একজন আসামীকেও পুলিশ গ্রেফতার করেনি বরঞ্চ আসামীরাই মামলা তুলে নিতে এখন হত্যার হুমকী দিয়ে বেড়াচ্ছে। কাহারোল থানার পুলিশের এসআই সুভাষ বলেছেন তাদের নিজেদেরই নিরাপত্তা নেই আমাদের নিরাপত্তা দিবে কিভাবে?

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন,তারা ইতিপূর্বে ৩ আগষ্ট ২০১৯ আমার স্বামী আবেদ আলীকে অপহরণ করে ৩ নং মুকুন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফারুকের চেম্বারে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ফাঁকাষ্টাম্পে স্বাক্ষর করে নেয়,এব্যাপারেও আদালতে মামলা করা হয়েছে।

এছাড়াও আসামীগনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে তারপরেও অদৃশ্যশক্তির বলে আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ গ্রেফতার করছে না। আমি আমাকে এসিডে আক্রান্ত করার ন্যায় সঙ্গত বিচারসহ আমার পরিবারের সহায় সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তার দাবী করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য