আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ এখন আশ্বিন মাস, শরৎকাল। গাইবান্ধার বিল জলাশয়ে ফুটতে শুরু করেছে পদ্মফুল। নানা রংয়ের পদ্ম গোলাপি, সাদা, লাল পদ্মফুলের পাপড়ি বিকশিত হয়ে বিল জলাশয়গুরোতে এক সুন্দর মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

ইদানিংকালে বিল জলাশয়গুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে জেলার জলাশয়গুলোতে পদ্মফুল এখন খুব কমই চোখে পড়ে। অথচ এক সময় ছিল প্রতিটি জলাশয়েই ফুটে থাকতো নানা রংয়ের বর্ণালী পদ্মফুল।

আর এই পদ্মফুল শুকিয়ে ঝড়ে পর পদ্মফুলের গাছে পদ্ম খোচা নামে সবুজ গোলাকার সুন্দর বীজ পানিতে ভেসে থাকতো। খাদ্য হিসেবেও তা মানুষের অত্যান্ত প্রিয়। গ্রামে-গঞ্জে এখনও পদ্মফুল, পদ্ম খোচা বিক্রি হয়। কেননা পদ্মফুলের ডাটাগুলো সবজি হিসেবে অত্যান্ত সু-স্বাদু।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, পদ্মফুলের অপর নাম কমল। পদ্মফুলের অপার সৌন্দর্যে মোহিত হয় না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। আর এই পদ্মফুল হচ্ছে শরতের অন্যতম অনুষঙ্গ। কবি বলেছেন ‘কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে/ দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে?’। পদ্মফুল আমাদের শেখায়, ভালো কিছু করতে গেলে কাঁটার আঘাত সহ্য করতে হয়। পদ্মফুল ভালোবাসার প্রতীক। কাঁটা বুকে নিয়ে মানুষের মাঝে সুবাস আর সৌন্দর্য বিলায়।

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার দামোদরপুরে কাতলার বিলে ফুটেছে অসংখ্য পদ্মফুল। মন ভুলানো, নয়ন জুড়ানো পদ্মফুলের টানে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে পদ্মফুল সংগ্রহে। এলাকার কিশোররাও ভালোবাসায় তাদেরকে নৌকায় চড়িয়ে ফুল সংগ্রহে সহায়তা করে নির্মল আনন্দ লাভ করে। এলাকার স্কুল পড়–য়া দুই বোন নুহা ও মারিহা কাতলার বিলে অপার সৌন্দর্যের পদ্মফুলের বনে গিয়ে আনন্দে আপ¬ুত হয়ে যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য