প্রথমেই যে প্রশ্নটা উঠে আসে, তা হচ্ছে, গম নিয়ে আমাদের তত আপত্তি নেই, কিন্তু ময়দাকে বারবার অস্বাস্থ্যকর বলা হয় কেন? গমের মধ্যে ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ়, সেলেনিয়াম, লোহা ছাড়াও নানা ভিটামিন ও ফাইবার থাকে। সুতরাং মোটের উপর তা বেশ পুষ্টিকরই বটে। কিন্তু ময়দা তৈরির প্রক্রিয়ায় তার কোনও গুণই আর অবশিষ্ট থাকে না।

আটার যে ভুষি তার হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক, কিন্তু ময়দা থেকে তো এই ভুষিটাই বাদ দেওয়া হয় সবার প্রথমে। তার পর আবার রংটা সাদা করার জন্য সাহায্য নেওয়া হয় ব্লিচিং প্রসেসের। ফলে পুষ্টিগুণের কিছুই আর বাকি থাকে না। উলটে ময়দা হজম হওয়ার সময় শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের বেশ খানিকটা টেনে নেয়।

তাছাড়া, ময়দায় তৈরি কোনও খাবার খেলেই আপনার রক্তস্রোতে তা গ্লুকোজ় হিসেবে মেশে খুব তাড়াতাড়ি। এই বাড়তি গ্লুকোজ়কে সামাল দেওয়ার জন্য অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে আপনার অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াস। তাকে বাড়তি ইনসুলিন তৈর করতে হয়। এক আধবার ময়দা খেলে অসুবিধে নেই, কিন্তু যাঁরা নিয়মিত তা খান, তাঁদের রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কিন্তু সত্যিই কঠিন।

রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ় আর প্রোটিন একসঙ্গে মিলে গ্লাইকোটিন নামক একটি বস্তু তৈরি করে এবং এই গ্লাইকোটিনের কারণে বাড়ে আপনার প্রদাহ। যাঁদের আর্থারাইটিস, অ্যালার্জি, অ্যাস্থমার মতো সমস্যা আছে, তাঁরা তো আরও সাবধান। আর একটা কথা, ময়দা খুব তাড়াতাড়ি যেহেতু রক্তস্রোতে মিশে যায়, তাই আপনার খিদে পাওয়ার হার বাড়বে। লুচি-পরোটা খাওয়ার পরই মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে না? সেটা কিন্তু ময়দার ধর্ম – ময়দা শরীরে আরও গ্লুকোজ়ের চাহিদা তৈরি করতে পারে!

ময়দা যখন রিফাইন্ড করা হয়, তখন পুষ্টিগুণের বারোটা বাজে, তা আগেই বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তা অ্যাসিডিটির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শরীরে যত বেশি অ্যাসিড তৈরি হবে, তত কমবে হাড়ের ঘনত্ব। বাড়বে আর্থারাইটিসের মতো সমস্যা। তা ছাড়া বেশিদিন নিয়মিত ময়দা খেলে পাচনযন্ত্রেও নানা সমস্যা দেখা যায়। তাই নিয়ম করে যারা পাউরুটি, বিস্কুট, কেক খান, তাঁরা আজই সচেতন হয়ে উঠুন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য