আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাটের তিস্তা পাড়ের লোকমান আলী। শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোই যেন তাঁর প্রধান কাজ। তিনি নিজ বাড়ীতেই গড়ে তুলেছেন পাঠশালা। সেখানে পড়তে আসে তিস্তা পাড়ের হতদরিদ্র পরিবারের শিশুরা। নিজ সন্তানের মতো ভালোবাসা দিয়ে তাদেরকে পড়ান লোকমান আলী। আর শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখরিত থাকে তাঁর পাঠশালা।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের তিস্তা পাড়ের বারোঘরিয়া আদর্শ গ্রাম। জেলা শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দুরে ওই গ্রামে এখনো পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ। নেই শিক্ষা সচেতনতা। নানা প্রতিকুলতার পরও ভুমিহীন লোকমান আলী ২০০৯ সাল থেকে নিজ বাড়িতে পাঠশালা গড়ে তুলে, স্থানীয় হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের মাঝে হাসিমুখে শিক্ষার আলো ছাড়াচ্ছেন।

তিস্তা পাড়ের ভুমিহীন চাষী লোকমান আলী শোনালেন তিস্তা পাড়ের অসহায় দরিদ্র শিশুদের পাঠ দানের অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, এখানকার সব কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষার আলো ছড়ানোর চেষ্টা করছি। ২০০৯ সাল থেকে আমি আমার বাড়িতেই পাঠদান শুরু করি। এখন কিশোর ও অভিভাবকদের মধ্যে অনেকটা সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।

লোকমান আলী তিস্তা পাড়ের হতদরিদ্র শিশুদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদেরকে দিচ্ছেন কলম খাতা এমনকি পোশাকও। অবসরে বসে না থেকে ছুটে যান তিস্তা পাড়ের বাড়ি বাড়ি আর খোঁজ নেন শিশুদের পড়াশুনার।

চরম দারিদ্রতার কষাঘাতে ১৯৯৫ সালে তার স্ত্রী নুরবানু বেগম তাকে ছেড়ে চলে যান। চার সন্তানকে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে কঠোর পরিশ্রম করে তাদেরকে শিক্ষিত করে তুলেছেন। পেটে ক্ষুধার জ্বালা নিয়ে কঠোর পরিশ্রমে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার সফলতা তাকে যুগিয়েছে অনুপ্রেরনা তাই চরের অবহেলিত শিশুদের শিক্ষিত করতে ক্রমাগত কাজ করে চলেছেন এ মানুষটি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য