মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমা সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন নৌ-সামরিক জোটে যোগ দিতে যাচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, ইন্টারন্যাশনাল ম্যারিটাইম সিকিউরিটি কনস্ট্রাক্টে যোগ দিয়েছে সৌদি আরব।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি বৃহৎ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর সৌদি আরবের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে হামলার নেপথ্যে ইরান জড়িত রয়েছে দাবি করা হয়।

হামলার পর ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা দায় স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার পেছনে ইরান জড়িত বলে দাবি করে আসছে। যদিও ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে সেই স্থানগুলো চিহ্নিত করার দাবি করে ওয়াশিংটন।

ওই হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরান ট্যাংকার আটকের পর যুক্তরাষ্ট্র নৌ-সামরিক জোটটি গড়ে তোলে। ইতোমধ্যে এই জোটে যোগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন ও যুক্তরাজ্য।

গত ১৯ জুলাই পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রিটিশ পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার ‘স্টেনা ইমপেরো’কে আটক করে ইরান। এরপর কূটনৈতিক চ্যানেলে তেহরানের ব্যাপক প্রচেষ্টার পর ১৫ আগস্ট জিব্রাল্টারের আদালতের নির্দেশে ইরানের সুপার তেল ট্যাংকারটি মুক্তি পেয়ে ভূমধ্যসাগর অভিমুখে যাত্রার প্রস্তুতি নেয়। এর একদিনের মাথায় এটি জব্দ করতে পরোয়ানা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন হুমকি মাথায় নিয়েই শেষ পর্যন্ত নিরাপদে গন্তব্যে নোঙর করে জাহাজটি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য