আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজা গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলায় ৬শ’ ২১টি পুজা মন্ডপ ও মন্দিরে এবার শারদীয় দুর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে।

এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১শ’টি, সাদুল্যাপুরে ১শ’ ১০টি, সুন্দরগঞ্জে ১শ’ ৪০টি, পলাশবাড়িতে ৬১টি, গোবিন্দগঞ্জে ১শ’ ২৭টি, সাঘাটায় ৬৫টি এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ১৮টি পুজা মন্ডপ ও মন্দিরে দুর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে।

মন্দির ও মন্ডপগুলোতে ইতোমধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রতিমা তৈরী করছে। এবারের শারদীয় দুর্গা উৎসব গাইবান্ধায় যাতে সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে সেজন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ সংশ্লিষ্ট আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপুজা উদযাপন উপলক্ষে বুধবার আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মতিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জেবুন নাহার, নেসকো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী, ডিডি এনএসআই, র‌্যাবের ডিএডি, জেলা আনসার অ্যাডজুটেন্ড, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ার, গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান, সাংবাদিক আবু জাফর সাবু, কেএম রেজাউল হক, গোবিন্দলাল দাস, সরকার মো. শহিদুজ্জামান, সহকারি পরিচালক হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাষ্টিজের সভাপতি শাহজাদা আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

সভায় সাতটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা পর্যায়ের অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সম্পাদকরা অনুপস্থিত ছিলেন।

সভায় গাইবান্ধায় সুষ্ঠভাবে শারদীয় দুর্গা পুজা উদযাপনের লক্ষ্যে কতিপয় সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়। উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে- আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে স্ব স্ব থানার অফিসার ইনচার্জ, পৌর মেয়র, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট সকল পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে সভা করে একটি উপ-কমিটি গঠন পূর্বক শৃংখলা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে পুজা উদযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

এছাড়া পুজা মন্ডপ সমূহে আইন শৃংখলা রক্ষায় সার্বক্ষনিক নজরদারি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যানজট নিরসন, আযান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্র ও মাইক বন্ধ রাখা, দশমীর দিন রাত ৮টার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জন দেয়া, ভূমি বিরোধপূর্ণ স্থানে পুজা মন্ডপ স্থাপন না করা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট প্রদত্ত অনুদান সকল পুজা মন্ডপে সঠিকভাবে বিতরণ, পুজা মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা করা, প্রতিটি মন্ডপ ও মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য