রংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম শাহাতাব উদ্দিন মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ করেন। প্রতীক পেয়েই প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছেন।

বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান নিজেই উপস্থিত থেকে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ বুঝে নেন। এরপর গণফ্রন্টের প্রার্থী কাজী মো. শহিদুল্লাহ তার দলীয় প্রতীক মাছ, খেলাফত মজলিস প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মণ্ডল তার দলীয় প্রতীক দেয়াল ঘড়ি এবং এনএনপি প্রার্থী শফিউল আলম দলীয় আম প্রতীক গ্রহণ করেন।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী এইচএম এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহারিয়ার আসিফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরগাড়ি (কার) প্রতীক গ্রহণ করেন। প্রতীক বরাদ্দের সময় সব প্রার্থী নিজেই উপস্থিত থেকে দলীয় প্রতীক নিলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাদ এরশাদ নিজে কিংবা তার দলের কোনও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। তবে রিটার্নিং অফিসার শাদ এরশাদকে তাদের দলীয় প্রতীক লাঙল বরাদ্দ দেন।

এদিকে প্রতীক পেয়ে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে আমার এখনও সন্দেহ রয়েছে। কারণ ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেওয়া হলে ফলাফল উল্টানো যায়। এর প্রমাণ বিভিন্ন দেশে আমরা দেখেছি। এরপরও আমি আশা করছি, যেহেতু এ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হবে না, সে কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।’ তার মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রতীক বরাদ্দের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন সঙ্গে নেই জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক দলেই গ্রুপিং আছে, আমাদেরও আছে। তারপরও আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে।’

এদিকে এরশাদের ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহারিয়ার প্রতীক নেওয়ার পর বলেন, ‘শাদ এরশাদ বহিরাগত প্রার্থী। তাকে রংপুরের মানুষ কখনও দেখেনি, চেনেও না। ফলে বহিরাগত প্রার্থী লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও ভোটাররা তাকে প্রত্যাখ্যান করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এরশাদ পরিবারের সন্তান। আমার প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন আছে। ফলে আমার প্রতীক লাঙল না হলেও মোটরগাড়ি প্রতীকে আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন তারা।’

এদিকে রিটার্নিং অফিসার প্রতীক বরাদ্দ করার আগে প্রার্থীদের নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেন। আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য