চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার জয়পুর ফাতেহ আলী ফাজিল মাদ্রাসার মাঠে বাণিজ্যিকভাবে ঘাস চাষ করায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাসহ নানা ধরনের বিনোদন থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের শিক্ষার পাশাপাশি শারিরীক ও মানসিক বিকাশ সম্প্রসারনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অনেকে বলেন, মাদ্রাসার মাঠ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে গো খামারীদের মাঝে ঘাস চাষের জন্য চুক্তি দিয়ে আসছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ৫০ শতকের মাঠটির ২৫ শতক জমিতে ঘাস লাগানো।

মাদ্রাসার ছাত্র আলামিন, মোস্তাকিম, আসিফ, বুলবুল, তারিকুল জানায়, মাঠ না থাকায় মাদ্রাসার পাঠদান শেষে কিংবা টিফিনের ফাঁকে খেলাধুলা করতে পারে না তারা। মাদ্রাসাটির মাঠ থেকেও মাঠ বলতে কিছু নেই। মাদ্রাসার মাঠের চারপাশ ইটের বাউন্ডারী ওয়াল দিয়ে ঘেরা।

যার একটি মাত্র বড় গেট ক্লাস সময় ছাড়া সব সময় বন্ধ থাকে। মাঠের ২৫ শতক জমি ঘাস চাষের জন্য এলাকার কয়েকজন গো-খামারীর মাঝে চুক্তি দেয়ার কারনে পুরো মাঠ অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

চাষকৃত ঘাস দেখা শুনার দায়িত্বে থাকা বাবুর সাথে কথা বলে জানা যায় ওই এলাকারই কয়েক জন মিলে প্রতি বছর এই খেলার মাঠটি চুক্তি নিয়ে থাকেন। তারা ছাড়া অন্য কেউ সেখানে ঘাস কাটতে পারবে না বলেও তিনি জানান।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হায়দার আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘাস বিক্রির বিষয়টি আভ্যন্তরীন। এ বিষয়ে ফোনে কিছু বলা যাবে না। আমি ঢাকায় আছি ফিরে এসে কথা বলবো। মাদ্রাসা মাঠে ঘাস চাষের বিষয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা রাজু জানান, ঘাস চাষ করার বিষয়টি সত্য।

তার জানা মতে মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মাদ্রাসা অধ্যক্ষের নির্দেশে ঘাস চাষ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধসহ নানা অসুবিধা হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মকছেদ আলী মন্ডল এর সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: গোলাম রব্বানী বলেন, জয়পুর ফাতেহ আলী ফাজিল মাদ্রাসা’র মাঠে ঘাস চাষের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য