মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ সহকর্মী অধ্যাপিকাকে নিয়ে ফুর্তি করার সময় জনতার হাতে আটক অধ্যক্ষকে বহিস্কারের দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারী কলেজে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং অধ্যক্ষের কক্ষের তালা খোলায় বাধা দিয়েছে।

১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে কলেজ চত্বরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিল করে বিক্ষোভ প্রদর্শণকালে অচিরেই অধ্যক্ষ ও অধ্যাপিকাকে বহিস্কারের দাবি জানায়। এর প্রেক্ষিতে কলেজের এইচ এস সি দ্বিতীয় বর্ষের আইসিটি বিষয়ের প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

সে সাথে কলেজ জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় শিক্ষার্থীরা শ্লোগান দেয় যে, ‘চরিত্রহীন অধ্যক্ষের শিক্ষাদান মানিনা, মানবোনা’, ‘অধ্যক্ষের কালো হাত ভেঙ্গে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘তদন্তের নামে কোন রকম গড়িমসি করা হলে প্রতিরোধ করা হবে’, ‘অচিরেই অধ্যক্ষ ও অধ্যাপিকাকে বহিস্কার করতে হবে’।

খবর পেয়ে সৈয়দপুর সরকারী কলেজের সভাপতি ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার ও সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশা ঘটনাস্থলে পৌছে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী তদন্ত পূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দেন।

এসময় কলেজ সভাপতি এস এম গোলাম কিবরিয়া আগামী ৫ দিনের মধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এজন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্যরা হলেন সৈয়দপুর থানার তদন্ত অফিসার আবুল হাসনাত ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা ইয়াসমিন। তার এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকাল ৫ টায় সৈয়দপুর শহরের শহীদ ক্যাপ্টেন সামসুল হুদা মৃধা সড়কে নির্মিতব্য শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ সংলগ্ন স্মৃতি স্তম্ভ পরিষদের অফিসে সৈয়দপুর কলেজের অধ্যক্ষ সাখাওয়াত হোসেন খোকন তার সহকর্মী একই কলেজের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা সুলতানা নওরোজসহ আপত্তিকর অবস্থায় জনতার হাতে আটক হন। এ ঘটনার অর্ধ উলঙ্গ ছবি ও ভিডিও সোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। যা আজ সৈয়দপুর শহরের চরম আলোচিত বিষয় হিসেবে সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকায় এ সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীদের নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশা জানান, অধ্যক্ষ ও অধ্যাপিকার অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলের কারণে কলেজ চত্বরে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজে উপস্থিত হয়ে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে কোন অপ্রীতিকর দূর্ঘটনা না ঘটে।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম গোলাম কিবরিয়া মুঠোফোনে বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আলোচিত বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি এবং এনিয়ে কলেজ চত্বরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য