দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা এলাকায় আর দেখা যায়না পানি পাণের কূপ । কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে এক সময়ের পাণ করা পানি সংগ্রহের কূপ। এই এলাকার মানুষের কাছে কুপ কুয়া ও চুয়া নামে পরিচিত।

রাজা জমিদারদের আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধের পরও নাকি মানুষ কূপের পানিই ব্যবহার করে থাকত। গ্রাম জুড়ে ১/২টি করে কূপ থাকত। সেই কূপগুলো থেকে গ্রামের সকলে পানি নিয়ে যেত। সেই পানি পান করা সহ রান্না বান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকত। কুপ খননের পর কোনটিতে বসানো হতো সিমেন্ট দিয়ে তৈরী করা রিং।

আবার কোনটিতে পোড়া মাটির রিং(পাট)। আবার কোনটিতে গাথুনি দেয়া হতো ইট দিয়ে। কোনটি থেকে শুধু খনন করে পানি সংগ্রহ করা হতো। অর্থাৎ সামর্থের উপর নির্ভর করতো এসব কূপের ধরন। এসব কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করার জন্য ব্যবহার করা হতো রশি ও বালতি।

কূপের ধারে খুটি দিয়ে বাঁশ দিয়ে ওই বাঁশের এক মাথায় লম্বা রশি লাগানো হতো। অপর মাথায় দেয়া হতো কিছু ভারি ধরনের জিনিষ। রশির মাথায় বালতি বেঁধে কুপ থেকে পানি টেনে তুলতে সুবিধার জন্য নাকি বাঁশের অপর প্রান্তে ভারি ধরনের জিনিষ বেঁধে দেয়া হতো। রশি থেকে বালতি কূপে পড়ে গেলে সেটি তোলার জন্য ব্যবহৃত হতো লোহার তৈরী কাঁটা।

ওই কাঁটা রশির মাথায় বেঁধে কুপের ভিতরে নামিয়ে তোলা হতো পড়ে যাওয়া বালতি। কূপ থেকে পানি তুলতে গিয়ে অনেকই পড়ে যেত কূপের ভিতরে। বিশেষ করে শিশুরা এর শিকার হতো বেশি। বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা জানান পানি সংগ্রহের জন্য গৃহিনীরা কূপস্থলে দল বধে কাঁধে কলস ও হাতে বালতি নিয়ে যেত। সেখানে পাড়ার গৃহিনীদের একপ্রকার মিলন মেলায় পরিণত হতো।

এপড়ার গৃহিনীদের সাথে ওই পাড়ার গৃহিনীরদের সাক্ষাতস্থলও ছিল বটে ওই কুপস্থল। ওই সময় বাড়ীর গৃহিনী সহ মেয়রা বিশেষ কাজ ছাড়া বাড়ীর আঙ্গিনার বাইরে যেত না। কোন যুবক যুবতির মাঝে সম্পর্ক গড়ে উঠলেও কথা বলা তো দুরের কথা দেখা করার সুযোগ থাকত খুব কম। ওই কূপ থেকে পনি সংগ্রহের সময় পথে সেই যুবক যুবতির মাঝে চোখ ইশারা কিংবা একটু মুচকি হাসিই ছিল দেখা ও যোগাযোগ।

এখন সব পরিবর্তন হয়েছে। ঘরে ঘরে টিউবওয়েল হয়েছে। বসানো হয়েছে পানির তোলার পাম্প। বিদ্যুতের দ্বারা পানি তোলা হচ্ছে। আবার সেই পানি মজুদ করা হচ্ছে ট্যাংকিতে। এখন আর কূপ। নাই কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করাও । গৃহিনীদের কোমরে আর কলসিও দেখা যায় না। এ প্রজন্মের গৃহিনীরা জানেই না যে এক সময় কূপের পানি পাণ করা হতো। বলতে গেলে এলাকায় আর দেখা যায়না পানি পাণের কূপ। সেটি এখন শুধুই স্মৃতি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য