ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অধিকৃত জর্ডান উপত্যকা ও ডেড সি-র উত্তরাংশ ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

পুনর্নির্বাচিত হলে এই এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি সাবভৌমত্ব কায়েম করা হবে বলে মঙ্গলবার ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর আশদোদে এক নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে ঘোষণা করেন তিনি।

ওই নির্বাচনী সমাবেশে তার দেওয়া ভাষণ ইসরায়েলের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। ওই ভাষণেই এ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী; জানিয়েছে বিবিসি, বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ওই এলাকাগুলোকে ‘ইসরায়েলের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজ আমি আমার পরিকল্পনা ঘোষণা করছি, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর, জর্ডান উপত্যকা ও ডেড সি-র উত্তরাংশে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব কায়েম করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “এটি করার জন্য আমি আপনাদের কাছ থেকে, ইসরায়েলের নাগরিকদের কাছ থেকে, পরিষ্কার রায় পেলে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিতে পারবো।”

এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জর্ডান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারা এ পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা করেছেন। একে ‘আগ্রাসন’ অভিহিত করে এটিকে ‘বিপজ্জনক পদক্ষেপ’ বলে নিন্দা করেছে আরব লীগ।

এর প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু এ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে গেলে ‘ইসরায়েলে সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি ও ওইসব চুক্তির বাধ্যবাধকতার সমাপ্তি ঘটবে’।

এ পরিস্থিতিতে ৫৭ জাতির অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসির) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি ডেকেছে সৌদি আরব।

জর্ডান উপত্যকা ও ডেড সি-র উত্তরাংশ পশ্চিম তীরের এক-তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীর, গাজা ও সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয়। ইসরায়েল ১৯৮০ সালে পূর্ব জেরুজালেম, ১৯৮১ সালে গোলান মালভূমি নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়, কিন্তু পশ্চিম তীরকে অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত থাকে।

দেশটির এসব পদক্ষেপ কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পেলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অনুসৃত নীতি থেকে সরে এসে প্রেসিডেন্টে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন উভয় পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছে পশ্চিম তীর। ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য পুরো এলাকাটি দাবি করেছে ফিলিস্তিন।

এখানে ও পূর্ব জেরুজালেমে ১৪০টি বসতি নির্মাণ করেছে ইসরায়েল যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ, কিন্তু ইসরায়েল এর সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে আসছে। নিরাপত্তার জন্য জর্ডান উপত্যকায় সবসময় ইসরায়েলে উপস্থিত থাকা দরকার বলে নেতানিয়াহু আগে থেকেই দাবি করে আসছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য