দিনাজপুর সংবাদাতাঃ আজ ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ খ্রি. (সোমবার) বিকাল ৪টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল, এনডিসি দিনাজপুরের সুখসাগর, রাজবাটী গণহত্যার স্মরণে নির্মিত স্মৃতিফলক উন্মোচন করেন। এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন।

ফলক উন্মোচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সুধী সমাবেশে সচিব মহোদয় বলেন, গণহত্যা জাদুঘর ও আর্কাইভ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে গণহত্যার ইতিহাসকে নিয়ে যাচ্ছে। গণহত্যার স্মৃতিকে ধরে রাখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গণহত্যা জাদুঘর কাজ করছে। রাজবাটীতে ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে দিনাজপুর জেলায় গণহত্যা জাদুঘরের কর্মকা- শুরু হলো। আমরা আশা করি দিনাজপুরের অন্যান্য বধ্যভূমি ও গণকবরগুলো সংরক্ষণে গণহত্যা জাদুঘর গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন বলেন, আমাদের গণহত্যা জাদুঘরের অধীনে বধ্যভূমিতে এখন পর্যন্ত ৫৫টি স্মৃতিফলক, ২০ জেলার গণহত্যা জরিপ বই আকারে প্রকাশ পেয়েছে আরও ১০টি জেলা জরিপের কাজ চলছে, ৮০ টি গণহত্যা নির্ঘণ্ট প্রকাশ ও ৩০৭ জন গবেষক-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, গণহত্যা জাদুঘরের আর্কাইভে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত প্রায় ১০ হাজার ছবি ও দুষ্প্রাপ্য পত্র-পত্রিকা রক্ষিত রয়েছে।

এই জাদুঘরই প্রথম ডিজিটাল জেনোসাইড ম্যাপ তৈরি করেছে। গণহত্যা জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় ইতিহাস সংরক্ষণে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে গণহত্যার স্মৃতিকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক পর দিনাজপুরে গণহত্যার এ স্মৃতি সংরক্ষণে এলাকাবাসী গণহত্যা জাদুঘরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী, দিনাজপুরের সভাপতি, দিনাজপুর সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গণহত্যা-জাদুঘর ট্রাস্টের ট্রাস্টি ড. চৌধুরী শহীদ কাদের, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী, দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক আলি ছায়েদ, নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ শমসের জামান, আজহারুল আজাদ জুয়েল, বিধান দত্ত, ছাইফুদ্দীন ইমরানসহ ইতিহাস সম্মিলনীর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করে বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী, দিনাজপুর।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ জাদুঘর ট্রাস্টের ট্রাস্টি ড. চৌধুরী শহীদ কাদের। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনী, দিনাজপুর এর সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান ছায়েদ আলী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রাজবাটি গণহত্যার গবেষক বিধান দত্ত।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা বিষয়ে ১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ জাদুঘর ট্রাস্ট কর্তৃক সম্প্রতি দিনাজপুর জেলায় জরিপ ও গবেষণা কর্ম পরিচালিত হয়েছে। এই জরিপ ও গবেষণায় দিনাজপুর জেলায় অনেক নতুন নতুন গণহত্যা ও বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। রাজবাটির গণহত্যা সেরকমই একটি ঘটনা যা সাধারন মানুষ ভুলে গিয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য