ধ্বংসাত্মক শক্তি নিয়ে এগোতে থাকা টাইফুন ফাসাইয়ের মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপান।

সোমবার দুপুরের মধ্যে শিজুওকা প্রিফেকচারের কান্তো অঞ্চল দিয়ে টাইফুনটি স্থলে উঠে আসবে, এমন ধারণা করা হচ্ছে বলে জাপানের আবহাওয়া কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এনএইচকে।

রাজধানী টোকিও এই কান্তো অঞ্চলের মধ্যেই পড়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার দুপুর পর্যন্ত ফাসাই হাচিজো দ্বীপ থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরে অবস্থান করছিল। ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটার বেগে টাইফুনটি উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ সময় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

ফাসাই ইজু দ্বীপের কাছ দিয়ে উত্তর দিকে এগিয়ে রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার দুপুরের মধ্যে কান্তো অঞ্চল এবং শিজুওকা প্রিফেকচার নিকটবর্তী হবে।

টাইফুনটি এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ার দাপট বেড়ে গিয়ে সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।

ফাসাই (লাও ভাষায় একজন নারী নাম) পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ওই অঞ্চলে ৩০০ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে বলে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “হঠাৎ করেই বাতাস ও বৃষ্টিপাত বেড়ে যেতে পারে, এতে সাগরে প্রবল ঝড় হতে পারে এবং রাজধানী ও অন্যান্য অঞ্চলে অতীতের রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার মতো ঝড় বয়ে যেতে পারে।”

প্রবল বাতাসের তোড়ে বৈদ্যুতিক লাইন ছিঁড়ে পড়তে পারে এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনএইচকে।

টাইফুন মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসেবে টোকিও ও ওসাকার মধ্যে চলাচলকারী ৫০টি বুলেট ট্রেন স্থগিত করা হয়েছে বলে সেন্ট্রাল জাপান রেলওয়ে কোম্পানি জানিয়েছে।

জাপান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, রোববার টোকিওর দুইটি বিমানবন্দরে নামার ও ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা প্রায় ২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং আরও ফ্লাইট বাতিল অথবা দেরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে।

টাইফুন আঘাত হানার আগে প্রয়োজন হলে জরুরিভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে, সে জন্য লোকজনকে প্রস্তুত হয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির আবহাওয়া কর্মকর্তারা

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য