দিনাজপুর সংবাদাতাঃ কাহারোল উপজেলার হতদরিদ্রদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ৩৬টি বাড়ী নির্মাণ করা হয়েছে ‘কোন রকমের খড়ের চালা দিয়ে মাটির ঘরে বসবাস করছি’। বৃষ্টিতে ভিজে প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে শীতে না ঘুমিয়েও পার করেছি রাতের পর রাত। পৈতৃক সূত্রে সামন্য জমি আছে। কিন্তু ঘর বানানোর সামর্থ্য নেই। সরকারি টাকায় পিআইও অফিস ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। এটাই আমার কাছে বিরাট পাওয়া। সম্প্রতি এ কথা গুলি বলেছেন দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ৩নং মুকুন্দপুর ইউ’পির সুন্দইল গ্রামের দিন মজুর জবা রানী।

উল্লেখ্য, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ১ম বারের মত দূর্যোগ সহনীয় বাড়ি নির্মাণ করছে সরকার। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির বিশেষ খাতের অর্থে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে অসচ্ছল, হতদরিদ্র, ঘরহীন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন দুর্যোগে গৃহহীন পরিবার, বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত মহিলা, প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ৩৬টি পরিবারের মধ্যে এসব পাকা বাড়ী নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। এসব বাড়ী নির্মাণ ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে শুরু হয়েছিল, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩ লক্ষ ৭ হাজার ১শ’ ষোল টাকা। প্রতিটি বাড়ী নির্মাণে সরকারে ব্যয় ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৫৩১ টাকা। বাড়ী গুলি হবে ইটের। দরজা, জানালা হবে কাঠের। থাকবে অত্যাধুনিক রঙিন টিনের ছাউনি। ১০ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট চওড়া আয়তনের দুই কক্ষের বাড়ী, একটি রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন, সুবিধা থাকবে। এসব বাড়ি হবে বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, বজ্রপাত প্রতিরোধে সক্ষম।

কাহারোলে হতদরিদ্রদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় ৩৬টি বাড়ী নির্মাণ -Dinajpur, Dinajpurnews, Dinajpur news, দিনাজপুর, দিনাজপুরনিউজ, দিনাজপুর নিউজ বাংলা, বাংলানিউজ bangle, banglanews, Bangladesh, বাংলাদেশ I+উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের মৃত. তছরউদ্দীনের স্ত্রী রওশনার বেওয়া (৫৫) বলেন, নিজের সামান্য জমি থাকলেও ঘর বানানো সামর্থ নেই। বেঁচে আছি গ্রামের মানুষের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে। দীর্ঘ দিন থেকে ঝুপড়ির মধ্যে বসবাস করে আসছি। সরকারি খরচে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পাওয়ায় শেষ জীবনটা হবে সুখের; নতুন বাড়িতে ভালোভাবে থাকতে পারবো।

অপরদিকে একই ইউনিয়নে ফেরুসাডাঙ্গা গ্রামের উলুন বেওয়া (৫৭) বলেন, অনেকদিন আশ্রয়হীন ছিলাম, নিজের কোন ঘর ছিল না। ঝুপড়িতে বসবাস করতাম। ঝড়, বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বৃদ্ধ হয়েছি। বয়সের ভারে এখন আর চলতে পারি না। সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আমার সামান্য জমিতে নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে। শেষ বয়সে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভালোভাবে দিন কাটাতে পারব বলে আশা করছি।

কাহারোল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, কাহারোল উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে ৩৬টি বাড়ী নির্মাণ কাজ চলছে।

এ বিষয়ে কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাসিম আহমেদ বলেন, হতদরিদ্র মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচীর মূল উদ্দেশ্য গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও জীবন যাত্রার মান পরিবর্তন করা। কাহারোল উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন জরিপের মাধ্যমে গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ৩৬টি দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজ শেষের দিকে। শিগগিরই তাদের বাড়ি হস্তান্তর করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য