বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিল প্রত্যাহারের বিষয়টি চীনের কমিউনিস্ট সরকার ‘বুঝতে পেরেছে, শ্রদ্ধা করেছে ও সমর্থন দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম।

বিলটি পাস হলে সন্দেহভাজন অপরাধীদের হংকং থেকে চীনের মূল ভূখণ্ডে বহিঃসমর্পণের সুযোগ তৈরি হতো।

বিতর্কিত এ প্রত্যর্পন বিলটিকে হংকংয়ের ওপর চীনের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নজির হিসেবে দেখা হচ্ছিল; শহরটিতে টানা কয়েক মাস ধরে বিস্তৃত হয়েছিল প্রতিবাদের স্ফূলিঙ্গ।

বিবিসি লিখেছে, হংকংয়ের বেইজিংঘনিষ্ঠ প্রশাসন বিলটি প্রত্যাহার করে নিলেও তা আন্দোলনকারীদের ক্ষোভকে প্রশমিত করবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সরকার অনেক দেরিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে, ভাষ্য বিক্ষোভকারীদের।

শহরটির প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম প্রত্যর্পণ বিলটি পাসের পরিকল্পনা ‘তুলে রাখার’ কথা আগেই জানিয়েছিলেন। বুধবার বিলটি প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন।

কে বিলটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে হংকংয়ের এ প্রধান নির্বাহী বলেন, “পুরো প্রক্রিয়ায়, বিলটি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার শুরুর ধাপগুলো থেকে গতকাল বিলটি প্রত্যাহার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার আমার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েছে, এবং সবসময়ই সমর্থন দিয়েছে।”

কয়েকদিন আগে ফাঁস হওয়া লামের একটি অডিও বার্তায় বিল প্রত্যাহারে তার প্রস্তাব চীন সরকারের প্রত্যাখ্যান এবং বিক্ষোভকারীদের অন্যান্য দাবি না মানতে তাদের নির্দেশের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছিল।

প্রত্যর্পণ বিলটি সত্যিই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে কিনা, এ নিয়ে বিরাজমান উদ্বেগও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, পার্লামেন্ট ফের শুরু হলেও বিলটি নিয়ে আর কোনো ‘বিতর্ক বা ভোট’ হবে না।

বিবিসি বলছে, হংকং চীনের ‘এক দেশ দুই নীতির’ অংশ হওয়ায় শহরটি মূলভূখণ্ডের অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে। নিজস্ব বিচারব্যবস্থা ও সীমান্তের পাশাপাশি হংকংয়ে সমাবেশের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত।

এপ্রিলে বিতর্কিত প্রত্যর্পণ বিলটি উত্থাপিত হওয়ার পরপরই এটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

বিলটি হংকংয়ের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ এবং বেইজিংয়ের সমালোচকদের হয়রানি ও চুপ করিয়ে দিতে ব্যবহৃত হতে পারে বলে বিরোধীরাও আশঙ্কা প্রকাশ করে।

প্রত্যর্পণ বিল পাসের পরিকল্পনায় সরকার অটল থাকায় এর প্রতিবাদে রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ, গণসমাবেশ শুরু হয়। এসব প্রতিবাদ কর্মসূচির অনেকগুলোই পরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের রূপ নেয়।

ধাপে ধাপে বিস্তৃত হওয়া এ সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে এখন হংকংয়ে পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দাবি তোলা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য