মাসুদ রানা পলক,ঠাকুরগাঁওঃ

ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার ঘনিমহেশপুর (খ্রিষ্টান মিশনপাড়া) গ্রামের সিলপাটা ব্যবসায়ী বাবলু ঘোষের স্ত্রী অনিতা রানী ঘোষ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম (৫০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে রুহিয়া থানার পুলিশ তাকে আটোয়ারী উপজেলার তোড়েয়া ডুহাপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, প্রতিবেশি সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল বাবলু ঘোষের। তার বাড়ির সম্মুখ অংশ দখল করে জাহাঙ্গীর আলম তার প্রথম স্ত্রী লিলি বেগমকে নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছিল।

২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর সকালে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে নিহত অনিতা ঘোষ এবং আসামি লিলি বেগমের মাঝে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর মেম্বার বাঁশের লাঠি নিয়ে অনিতা ঘোষের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটে পড়েন।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ নভেম্বর ভোরে সাড়ে ৫ টায় অনিতা রানী মারা যায়।

এ ঘটনায় অনিতা ঘোষের স্বামী বাবলু ঘোষ বাদী হয়ে রুহিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী লিলি বেগমকে আসামি করে রুহিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বুধবার ভোরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসি (তদন্ত) বাবলু কুমার রায় বলেন, আসামি জাহাঙ্গীর মেম্বার ঘটনার পর থেকে ফেরারি রয়েছেন। তিনি ঘনঘন জায়গা ও মোবাইলের সিম পরিবর্তন করায় তাকে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। অবশেষে তিনি আটোয়ারী উপজেলার তোড়েয়া ইউনিয়নের ডুহাপাড়া গ্রামের অটোচালক আনিসুরের বাড়িতে ৩ দিন পূর্বে আশ্রয় নিলে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য