আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর ব্যবহৃত একটি হাউজিং কমপ্লেক্সে তালেবানের গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার রাতে অত্যন্ত সুরক্ষিত ওই কম্পাউন্ডটিতে হামলার পর মঙ্গলবার সকালে ক্ষিপ্ত স্থানীয় বাসিন্দারা ওই কম্পাউন্ডটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলে সেখানে অগ্নিসংযোগ করে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য নিযুক্ত বিশেষ মার্কিন দূত জালমে খলিলজাদ তালেবানের সঙ্গে হওয়া একটি খসড়া চুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরার সময়ই হামলাটি চালানো হয়। শক্তিশালী এ বিস্ফোরণে কয়েক কিলোমিটারের দূরের ভবনগুলোও কেঁপে ওঠে।

শনি ও রোববার উত্তরাঞ্চলীয় দুটি শহরে বড় ধরনের হামলার পর রাজধানীর গ্রিন ভিলেজ কম্পাউন্ডে হামলা চালালো তালেবান। এতে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে শান্তির বিষয়ে যে সমঝোতা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিস্ফোরণের সময় কাছেই নিজের বাড়িতেই ছিলেন হাবিব জান। তিনি জানান, এই এলাকায় প্রায়ই হামলা হয় এবং স্থানীয় অনেক বাসিন্দাই চান ত্রাণসংস্থাসহ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর বিদেশি কর্মীদের ব্যবহৃত এই বাণিজ্যিক ও আবাসিক কম্পাউন্ডটি এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক।

“এক-দুইবার হামলা হয়নি, এই নিয়ে চার থেকে পাঁচবার হামলা হলো, সবই তালেবানের কাজ। আমার অনেক বন্ধু, আমাদের অনেক পরিবার আহত বা নিহত হয়েছেন,” কমপ্লেক্সটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি তোলা প্রতিবাদকারীদের টায়ারে জ্বালানো আগুনের ধোঁয়া পেছনে রেখে বলেন তিনি।

“আমাদের তরুণরা নিহত হচ্ছে, শিশুরা নিহত হচ্ছে, আমাদের বৃদ্ধরা নিহত হচ্ছে, আমাদের মেয়েরা নিহত হচ্ছে,আমরা কী করবো?”

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসরাত রাহিমি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি বিস্ফোরক ভরা একটি ট্রাক্টরের মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে কিন্তু সশস্ত্র হামলাকারীরা, যারা বিস্ফোরণের পর হামলা চালানোর পরিকল্পনায় ছিল, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে।

অত্যন্ত সুরক্ষিত ওই কম্পাউন্ডটি থেকে প্রায় ৪০০ বিদেশি নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

খলিলজাদের সাক্ষাৎকার যখন সম্প্রচার করা হচ্ছে, তখন হামলাটি চালানো হয়; এতে এটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে করা হচ্ছে।

হামলার দায় স্বীকার করে তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ বিস্ফোরণে অনেকগুলো ঘর ও দপ্তর ধ্বংস হয়েছে এবং বহু ‘দখলদার’ নিহত হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন।

কাবুলে অবস্থান করা কয়েক হাজার বিদেশি ঠিকাদার ও সংস্থাগুলোর কর্মীদের জন্য তৈরি করা অন্যান্য কম্পাউন্ডের মতো গ্রিন ভিলেজ কমপ্লেক্সও বিস্ফোরণ প্রতিরোধী কংক্রিটের দেয়াল ও স্টিলের গেট দিয়ে সুরক্ষিত। সশস্ত্র রক্ষীরা কম্পাউন্ডটির পাহারায় নিয়োজিত।

গত কয়েক বছর ধরে এ ধরনের কম্পাউন্ডগুলোতে একের পর এক হামলা চালানো হলেও সেসব হামলায় আশপাশে বসবাসরত আফগানিস্তানের বেসামরিক নাগরিকরাই বেশি হতাহত হয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য