রংপুর মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে গত বুধবার দুপুরে আবারো সন্ত্রাসী হামলা ও মালামাল লুটকরার ঘটনাসহ বিভিন্ন সময় হোষ্টেল থেকে মালামাল চুরির ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ ৬ দফা দাবিতে রংপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন শুরু করেছে। গত বুধবার রাত থেকে ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জনের এ ঘোষণা দেয় তারা।

এদিকে, রংপুর মেডিকেল কলেজে ছাত্রদের মালামাল চুরির ঘটনায় পুলিশ এক কর্মচারীকে গ্রেফতার করলে গতকাল সকালে কর্মচারীরাও ধর্মঘট শুরু করে। পরে বিকেলে রমেক অডিটরিয়ামে কর্তৃপক্ষের সাথে এক আলোচনা বৈঠক শেষে কর্মচারীরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেও শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচী অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়। ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, সকল ছাত্রাবাসে সি.সি ক্যামেরা স্থাপন, হারিয়ে যাওয়া জিনিষপত্রের ক্ষতিপুরণ, কর্তব্যরত কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পাসে বহিরাগত নেশাগ্রস্তদের প্রবেশ নিষিদ্ধকরণ, ছাত্রাবাসের গেটে রেজিষ্টার ব্যবস্থাকরণ।

রমেক শিক্ষার্থী , কর্মচারী ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে নিরাপত্তাকর্মীদের অনুপস্থিতিতে কিছু সন্ত্রাসী হোষ্টেলে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৫ম বর্ষের ছাত্র নাজমুল হাসান রিসাতের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল সেট, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়্। পরে এ খবর শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এক কর্মচারীকে আটক করে। এ ঘটনা সকালে কর্মচারীরা জানলে তারা কর্মবিরতি শুরু করে। এদিকে, দুপুরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রমেক মিলনায়তনে কলেজ ও পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীদের আলোচনা বৈঠক হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, রমেক অধ্যক্ষ ডা. আব্দুর রউফ, পরিচালক ডা. গোলাম মোস্তফা, ডা. জাকির হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল এ) হুমায়ুন কবীর, কোতয়ালী থানার অফিসার্স ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী, শিক্ষার্থী মাহমুদুর রহমান রিপা, তৌফিকুল হাসান রকি, সারোয়ার আলম, এহসানুল আমিন, নিশি, গোরাঙ্গ চন্দ্র রায়, কর্মচারী লিয়াকত আলী, রেজাউল করিম প্রমুখ।

আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে জেলা পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলেও এসব আশ্বাসের বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাশ ও পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে বলে জানিয়েছে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী গৌরাঙ্গ চন্দ্র রায়। পরে বিকেলে শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেয়।

কলেজ কর্মচারী সংগঠনের সভাপতি লিয়াকত আলী জানান, আমাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বৈঠক হয়েছে। আমাদের কর্মচারীকে ছেড়ে দেয়া ও সকল গৃহীত সিদ্ধান্ত পালন করার শর্তে প্রশাসনের সাথে ফলপ্রসু আলোচনা হওয়ায় আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।

রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আব্দুর রউফ জানান, দুপক্ষের সাথেই আলোচনা হয়েছে। আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পুলিশ প্রশাসন খুবই আন্তরিক। আমরা ডাকা মাত্রই তারা সহযোগিতা করেছে। শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা চলছে। শীঘ্রই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য