আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামপুরা গ্রামের প্রয়াত ফেলু ফকিরের তৃতীয় লিঙ্গের সন্তান সুমি খাতুন ওরফে খাজার পৈতৃক ১৩ একর ৫ শতক জমি ও বসতবাড়ি সন্ত্রাসী কায়দায় জবর দখল করে নিয়েছে প্রয়াত দুলা মিয়ার ৫ সন্তান।

বসতবাড়ি ও জমাজমি হারিয়ে এবং সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে সুমি খাতুন বাড়িঘর ছেড়ে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত আবেদন করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।

রোববার গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে গোবিন্দগঞ্জের তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুমি খাতুন ওরফে খাজা লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তার দাদা মানিক উল্যাহ এর ৩৫৪, ৩৬০ ও ৪৬৯ খতিয়ানের ২৩টি দাগে ১৩ একর ৫ শতক জমির মালিক ছিলেন।

তার সন্তানরা নাবালক থাকায় এ সমস্ত জমি চাষাবাদ করার জন্য বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার চন্দনবাইশা গ্রামের দরিদ্র দুলা মিয়াকে বাড়িতে নিয়ে এসে আশ্রয় দেয়। সুযোগ বুঝে লোভী এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির দুলা মিয়া তার আশ্রয়দাতা মানিক উল্যাহকে ১৯৩৭ সালে গলা কেটে হত্যা করে। এসময় সুমির পিতা ফেলু ফকিরের বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর। পলাশবাড়ি উপজেলার হরিণাবাড়ি গ্রামের জাহা বকস এর স্ত্রী ফুপু বাচ্চানি বেগম তার বাড়িতে ফেলু ফকিরকে লালন পালন করে।

এই সুযোগে সুমি খাতুনের পিতা ফেলু ফকিরের পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত জমিজমা ও বসতবাড়ি দুলা মিয়া জবর দখল করে নেয় এবং নিজের জমাজমি ও বসতবাড়ি আখ্যায়িত করে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে। পরে আকস্মিকভাবে তার মৃত্যু হলে তার সন্তান আব্দুর রশিদ, সাজু মিয়া, তারা মিয়া, আলতাফ ও আতোয়ার জবর দখল করে রাখে এবং ওই সম্পত্তি ও বসতবাড়ি থেকে ফেলু ফকিরের একমাত্র সন্তান সুমি খাতুনকে বঞ্চিত করে।

এছাড়া ওই বাড়িতে ঢুকলে বা তার সম্পত্তি দাবি করলে তারা সুমি খাতুনকে জীবননাশের হুমকি দেয়। সুমি এখন সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অহনা আকতার, মুন্নি খাতুন, তরী খাতুন, বরি খাতুন, রিংকি খাতুন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য