একটা সময় ছিল যখন মুনি ঋষিরা ঈশ্বরের সাথে আলাপ আলোচনা করে কোন জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করতো, ঈশ্বরের প্ররিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান রাখতেন। তারপর এলো সাধু সন্নাসী, তারা ঈশ্বরের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বার্তা আদান প্রদান করতেন। তখন ঈশ্বর মানুষ নিয়ে মজার গুটি খেলায় ব্যাস্ত, তাই তিনি আর সয়ং নিজে নেমে আসতেন না, প্রতিনিধি পাঠাতেন। বোকা মানুষ প্রতিনিধিদের ঈশ্বর ভেবে পুজা শুরু করে। ঈশ্বরে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

আবার নতুন করে নিজ পরিকল্পনা মত মানুষের ভবিষ্যৎ সাজাতে এবার আল্লাহ্ পাঠালেন নবী ও রাসুলদের। তারা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্’র ইচ্ছা, আল্লাহ্’র বানী, আল্লাহ্’র পরিকল্পনা নিজ উদ্দ্যোগে মানুষের কাছে পৌছে দিতেন, বিভিন্ন বিষয়ে মানুষকে জ্ঞান দান করতেন। ধীরেধীরে জ্ঞান বাড়তে থাকলে, মানুষ নিজেদের সর্বেসর্বা ভাবতে শুরু করে, আল্লাহ্ বা ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস কমতে থাকে। এরপরও কিছু মহামানব মহাপুরুষ অলি আউলিয়া, দরবেশ, পীর মুরশিদ, সাধক গুরু গননা করে বা ওহির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার বানী ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে পূর্বাভাস দিতেন।

কিন্তু কই, এখন আর তেমন সুযোগ সুবিধা কোথায়? সেরকম সৎ ভাল মানুষ আর কই? যারা নিজের খেয়ে মানুষের উপকারে পৃথিবী চোষে বেড়াবে জ্ঞানের আলো ছড়াবে। সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ বা ঈশ্বর আমাদের ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে সেরকম মহামানব মহাপুরুষ প্রেরণ একদম বন্ধ করে দিয়েছে।

অন্য দেশের ভবিষ্যৎ হালকা পাতলা বোঝা গেলেও, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সেরকম মহাপুরুষ ছাড়া ঈশ্বর কি আর আমাদের কখনও বলবেন। অসম্ভব, তারপরও মাঝে মাঝে বড় জানতে ইচ্ছে করে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকার বা ঈশ্বরের পরিকল্পনা কি? ওরা যে গেড়ে বসেছে।

রোহিঙ্গারা এখন মোবাইল ফোন চালায়, সিনেমা দেখে, মিনারেল ওয়াটার দিয়ে ত্রান গিলে, ইচ্ছামত সেক্স ও মারপিট করে, ঘুরে বেড়ায়। সেদিন দেখি কারা যেন আবার রোহিঙ্গাদের হাতিয়ার উপহার দিতে চাইছে। সেই হাতিয়ার কাদের উপর ব্যবহার করতো রোহিঙ্গারা, তাদের সভা সমাবেশের উদ্দেশ্য কি? ইয়াবা প্রস্তুত ও পাচারের চরম সাফল্যের পর এদেশের যুব সমাজ ধ্বংসে রোহিঙ্গাদের নতুন অস্ত্র কি হতে পারে?

আরও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। এক সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয় সিমান্তে আরো ৫ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা অপেক্ষা করছে বাংলাদেশে ঢোকার অপোক্ষায়। ফ্রি খাওয়া ফ্রি থাকার সুযোগ যখন আমরা দিয়েছি এতে দের দোষ কোথায়।

একটা বইতে পড়েছিলাম, পৃথিবী ধ্বংসে জু বা ইহুদিদের হাত থাকবে। সে ক্ষেত্রে রোহিঙ্গারাই বা কম যায় কিসে! ঘটনা চত্রকে দুটার ইতিহাস তো প্রায় একরকম। জু বা জুয়িস বা ইহুদিরা ৫০০ বছর দাসত্ব করেছিল, আর রোহিঙ্গারা কে জানে কত। তবে দুই জাতির একই ভাবে তাদের উদ্ধারকরিদের প্রত্যাখ্যান করেছে, দুটাই নিমকহারাম।

আমি একটু স্বার্থপর তাই পৃথিবীর খবর না হয় পরে হবে, আমি জানতে চাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি রোহিঙ্গাদের কারনে বিফল হবে? কোন মহাপুরুষ এই ভবিষ্যৎ বানী দেবে, নেশার ঘোরে আজকাল সবাই যে তাদের মহা মহা পৌরুষ্যের ভ্রান্ত প্রচারে উদগ্রীব।
– আজাদ জয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য