দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে কাউন্সিলরগণ। ৩১ আগস্ট শনিবার পৌর কার্যালয়ের ফাতেহুল আলম দুলাল স্মৃতি মিলনায়তনে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

পৌর মেয়রের কর্মকান্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মিডিয়াকর্মীদের প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলাল বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ১৩জন কাউন্সিলর গত ২৮ আগস্ট বুধবার অনাস্থা প্রস্তাব এনেছি। ২৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার মাসিক সভায় জাতীয় স্বার্থে ও সম্প্রতি ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আসা ১২ লাখ টাকা খরচের অনুমোদন দিয়ে সভা বয়কট করেছি আমরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্যানেল মেয়র বলেন, সারাদেশ যখন ডেঙ্গু নিয়ে তোলপাড়, সরকার সকল ছুটি বাতিল করেছে, তখন দিনাজপুর পৌর পরিষদের কোন সভা করেননি মেয়র। এমন কি পৌরসভার কর্মকর্তা কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেননি তিনি। পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলতেই পারেননা ডেঙ্গু বা এডিস মশা কি। ঠিক যে সময় সরকারি কোষাগার থেকে বেতন ভাতার দাবীতে ৩২৮টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছিল, সে সময় আমরা কাউন্সিলররা সবাই উদ্যোগ নিয়ে রাত-দিন বছরের পর বছর পড়ে থাকা ময়লার স্তুপগুলো পবিত্র ঈদ উল আযহার পূর্বেই পৌরবাসীকে পরিস্কার শহর উপহার দিতে সক্ষম হয়েছি। এসময় মেয়র সাহেব কোন সহযোগিতা করেননি। বরং সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে দেদারছে ছুটি দিয়ে আসছেন। যাতে আমরা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে না পারি। অথচ ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় শুক্র-শনিবার বন্ধের দিনেও অফিস খোলা থাকার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। কিন্তু আমি দায়িত্ব থাকাবস্থায় সে সময় পৌরসভা ২৪ ঘন্টা চালু রেখেছিলাম। আমরা কাউন্সিলরেরা ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতনমুলক লিফলেট বিতরন করেছিলাম।

বক্তব্যে তিনি আরও জানান, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের নিবন্ধনের ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার কোন হিসাব পৌরসভায় নেই। মাস্টার রোল কর্মচারী না থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়। অনেক মাস্টার রোল কর্মচারী বছরের পর বছর কোন কাজ না করেও বেতন ভাতা উত্তোলন করছে। বন্ধের দিনেও হাজিরা দেখিয়ে বেতন ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। রোলার ভাড়ার টাকায় দুর্নীতি, ভ্যাকম ট্যাংকারের টাকার দুর্নীতি, বিল বোর্ডের টাকার দুর্নীতি ও স্টেশনারী মালামাল ক্রয়ে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতিতে দিনাজপুর পৌরসভাকে একটি দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন মেয়র। এছাড়াও জন্ম নিবন্ধন নিয়ে চলছে লাগাতার বাণিজ্য। নিবন্ধন সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না কোন নিয়ম।

প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলাল লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের আরও জানান, পৌরসভা আপনার,আমার, আমাদের সকলের। আমাদের রাজনৈতিক দর্শন থাকতেই পারে। কিন্তু যখন জনগণের ভোটে আমরা নির্বাচিত হয়েছি, তখন সেবক হিসেবে পৌরবাসীর সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। মেয়র সাহেবকে কোন কাজের কথা বললেই রাজনৈতিক দোহাই দিয়ে বলেন, আমাকে বরাদ্দ দেয় না সরকার। সেবা করতে দেয় না। এই দোহাই দিয়ে তিনি জনগণকে ধোকা দিচ্ছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন প্যানেল মেয়র। তিনি বলেন, আসলে মেয়র সাহেব কোন কাজই করতে চান না। সবসময় সচেষ্ট থাকেন কিভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলানো যায়। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা যায়। আর আমাকে সেবা করতে দেয় না-এই জিকির তিনি মুখস্ত করে ফেলেছেন। কিন্তু জেলার আশপাশের অনেক পৌর মেয়র বিএনপি করেন। তারা কিভাবে বাজেট পাচ্ছেন। কিভাবে কাজ করে পৌরবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

পরিশেষে পৌরসভাকে বাঁচাতে মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থার বিশদ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল মেয়র আগামীতে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ প্রদানের কথা উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, মেয়রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী পালনসহ পরবর্তীতে বৃহত্তর কর্মসূচী গ্রহণের বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে পরিস্কার জানিয়ে দেন কাউন্সিলরগণের পক্ষে প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলাল। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য কাউন্সিলরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউল রহমান নওশাদ, জাহাঙ্গীর আলম, মোস্তফা কামাল মুক্তিবাবু, আশরাফুল আলম রমজান, মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, কাজী আকবর হোসেন অরেঞ্জ, মাকসুদা পারভীন মিনা ও মাসতুরা বেগম পুতুল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য