দিনাজপুরঃ এদেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির রূপকার ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। উপজেলা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে তিনি প্রশাসনকে জনগনের দোরগোড়ায় পৌছে দিয়েছিলেন। যার সুফল গ্রাম অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এখনও ভোগ করছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির সাবেক প্রয়াত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের চেহেলাম ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা জাপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দোয়া ও চেহেলাম মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন চেহেলাম ও দোয়া উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক জেলা জাপার প্রধান উপদেষ্টা আব্দুস সামাদ চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেলোয়ার হোসেন বলেন, এরশাদ ছিলেন এদেশের সফল রাষ্ট্র নায়ক। দেশের সকল অঞ্চলে তার উন্নয়নের চিহ্ন এখনও রয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা আহমেদ শফি রুবেল বলেন, এরশাদ ছিলেন নতুন বাংলাদেশের রূপকার। ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে এটাই ছিল এরশাদের প্রধান লক্ষ্য। এরশাদ উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি করেছেন। কোন জ্বালাও-পোড়াও বা নেতিবাচক রাজনীতি তিনি পছন্দ করেন নাই। তিনি গুন-খুনের রাজনীতি করেননি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পদত্যাগের পর থেকেই এদেশে শুরু হয়েছে গুম-খুন ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি।

রুবেল বলেন, গুম-খুন বিএনপির শাসন আমল থেকে শুরু হয়ে বর্তমানে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এরশাদের রাজনীতি ছিল সাধারণ মানুষের মঙ্গল সাধন করা। সেই লক্ষ্যে তিনি সারা দেশের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছিলেন। তার উন্নয়নের ছাপ দিনাজপুরেও এখন জ্বল জ্বল করছে। দিনাজপুর কাঞ্চন সেতু, হাজী মোহাম্মদ দানেশ কৃষি কলেজ থেকে শুরু করে অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড তিনি করে গেছেন। যেগুলোর উপকার এখনও মানুষ ভোগ করছেন। তিনি বলেন, দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়ক, দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক এবং দিনাজপুর-রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক সবই এরশাদের দান। যমুনা সেতুর রূপকারও এরশাদই ছিলেন।

পরে আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মোঃ আতিকুর রহমান। শেষে বিপুল সংখ্যক দুঃস্থ্যদের মাঝে খাবার পরিবেশন করা হয়।

বোচাগঞ্জঃ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধান পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এদেশের সত্যিকারের একজন নিবেদিত প্রাণ নেতা ছিলেন। তিনি দেশ ও জনগনের জন্যই সারাটা জীবন কাজ করে গেছেন। নিজের কথা না ভেবে শুধু জনগনের কথা ভেবেই তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিনা রক্তপাতে সেদিন ক্ষমতা ত্যাগ করেন। আর সেজন্যই তিনি মানুষের মাঝে চির অম্লান হয়ে আছেন।

গ্রামের অনেক মানুষ এখনও ভাবে-এরশাদই দেশের রাষ্ট্রপতি রয়েছেন। যারা জানেন, তিনি মারা গেছেন তারা আজ শোকে কাতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। পল্লীবন্ধু এরশাদ এ দেশের জন্য যা করে গেছেন, তা পরবর্তী কোন সরকারই করতে পারেনি। কারন সবাই নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত।

এরশাদ রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্টসহ যোগাযোগ ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। দেশের সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংযুক্তসহ ইসলামের জন্যও অনেক কিছু করে গেছেন।

ধর্মপ্রাণ একজন মুসলমান হিসেবে তিনিই এদেশে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি প্রবর্তন করেন। এরশাদ দ্বীন-ইসলামের জন্য যা যা করে গেছেন, আমরা দোয়া করছি-মহান আল্লাহ পাক যেন তাঁকে তার উত্তম প্রতিদান দান করেন। আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। (আমীন)।

৩১ আগষ্ট দুপুরে বোচাগঞ্জ আব্দুর রৌফ অডিটোরিয়ামে উপজেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের চেহলাম অনুষ্ঠানে বোচাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এ্যাড. জুলফিকার হোসেন উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

বিরলঃ দিনাজপুরের বিরলে জাতীয় পার্টির আয়োজনে প্রয়াত চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এর চেহলাম ও আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বিরল পৌরশহরের বিরল বাজার নাড়াবাড়ী রোডের অস্থায়ী কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এর আত্মার মাগফিরাত ও পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিরামপুরঃ কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ৩১ আগষ্ট, শনিবার দিনাজপুরের বিরামপুরে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টি’র চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ- এর রুহের মাগফিরাত কামনায় জাতীয় পার্টি, বিরামপুর পৌর শাখার আয়োজনে ও উপজেলা শাখার সহযোগিতায় বেলা ১২ টায় পৌরসভা অডিটরিয়ামে কোরআন খতম, দোয় মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌর জাতীয় পার্টির সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলার মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ স¤পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ¦ মোশাররফ হোসেন মাষ্টার এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ স¤পাদক ও সবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো¯তাফিজুর রহমান ফিজুল বক্তব্য রাখেন। এতে সাবেক রাষ্টপতি মরহুম হুসাইন মুাহাম্মদ এরশাদ- এর জীবনী ও শাসনামলে দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়। এতে উপজেলার ইউনিয়ন ও পৌর ওয়ার্ড শাখার নেতাকর্মীরা উপ¯িথত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য