দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন কাউন্সিলরগণ।
২৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে পৌর কার্যালয়ে দিনাজপুর পৌরসভার মাসিক সভায় মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এর বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতিগুলি উত্থাপন শেষে অনাস্থা প্রস্তাব দেন প্যানেল মেয়র-১ মো. আবু তৈয়ব আলী দুলাল। দুইজন বাদে ১৩জন কাউন্সিলরই অনাস্থার সমর্থন দিয়ে সভা বয়কট করেন তারা।

এর আগে ২৮ আগস্ট বুধবার পৌর কার্যালয়ে এক বৈঠকে দিনাজপুর পৌরসভাকে বাঁচানোর লক্ষ্যে আলোচনা ও পর্যালোচনা সাপেক্ষে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে মেয়রের বিরুদ্ধে আনিত অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন কাউন্সিলরগণ।

আনীত দুর্নীতিগুলি হলো-ইজিবাইক এর নিবন্ধনকৃত আনুমানিক এক কোটি ষাট লক্ষ টাকা আদায় হলেও সঠিক কোন হিসাব নেই। বিভিন্ন শাখায় মাস্টাররোল কর্মচারী না থাকা সত্ত্বেও বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়, অনেক মাস্টাররোল কর্মচারী রয়েছেন যারা কোন কাজ না করেই শুধু মাস নয় বছরের পর বছর বেতন ও ভাতা নিয়ে যাচ্ছেন। রোলার ভাড়া থেকে অনেক টাকার দুর্নীতি হয়েছে। ভ্যাকম ট্যাংকার থেকে অনেক টাকার দুর্নীতি। বিল বোর্ডের ভাড়া থেকে ব্যাপক দুর্নীতি। এবং ষ্টেশনারী মালামাল ক্রয় থেকে শুরু করে কোটেশনের ক্রয়কৃত মালামালের সীমাহীন দুর্নীতি।

অনাস্থা প্রস্তাবকারী প্যানেল মেয়র-১ আবু তৈয়ব আলী দুলাল বলেন, মেয়র সাহেবের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজ আমরা এক হয়েছি। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছি। কেননা আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধে। অন্যান্য কাউন্সিলরগণও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার।

তিনি আরও বলেন, মেয়রের দুর্নীতির দায়ভার আমরা কেনো নেব। আর ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর পৌরসভাকে আমরা মেয়রের জন্য এভাবে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারিনা। তাই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছি। জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছেন একটি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন আলোকিত শহর উপহার পেতে। কিন্তু পৌর মেয়রের দুর্নীতির কারনে জনগণকে আমরা তাদের উপহার হাতে তুলে দিতে পারছিনা।

এ বিষয়ে দিনাজপুর পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, অনাস্থা কাউন্সিলরদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু দুইজন কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন নি। আর আমি দুর্নীতি করেছি কিনা, দুদকের রিপোর্টেই সব লিখা আছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য