গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রামজীবন গ্রামে বিয়ের দাবীতে গত ৭দিন থেকে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা আ-মরণ অবস্থানে রয়েছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের পশ্চিম রামজীবন গ্রামের জহির উদ্দিনের সৌদি প্রবাসী ছেলে আশরাফুল ইসলামের সাথে একই ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার জর্ডান প্রবাসী মেয়ে বিলকিছ আক্তারের ফেসবুকে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্রেম চলে আসছিল। এরই একপর্যায়ে দু-জনের গ্রামের বাড়ি একই ইউনিয়নে হওয়ায় আশরাফুল বিলকিছকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের ঘটনাটি জানায়।

এতে করে দু-পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যে আত্মীয়তার জন্ম দিলে প্রেমিক আশরাফুলের দাবী গ্রহণ করে প্রেমিকা বিলকিছ জর্ডান থেকে কয়েক দফায় ৬ লক্ষাধিক টাকা আশরাফুলের পরিবারকে প্রেরণ করেন। প্রেমিক-প্রেমিকা বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে অভিভাবকদের জানিয়ে গত ১২ আগস্ট দুজনে দেশে ফেরেন।

এদিকে দেশে ফেরার পর প্রেমিক বিয়ের দিন তারিখ অস্বীকার করে প্রেমিকাকে প্রত্যাখ্যান করতে থাকলে প্রেমিকা সমাজের বুকে মুখ দেখাতে না পেরে বাধ্য হয়ে এক কাপড়ে প্রেমিক আশরাফুল ইসলামের বাড়ীতে বিয়ের দাবী নিয়ে গত ২২ আগস্ট অবস্থান নেয়।

ঘটনাটি টক-অব-দ্যা সুন্দরগঞ্জে পরিণত হলে এলকাবাসী একত্র হয়ে গত ২৪ আগস্ট ইউপি সদস্য সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে শালীসে বসেন। প্রেমিক প্রেমিকার উপস্থিতিতে শালিসে ৫ লাখ টাকা দেন-মোহরানা ধার্য্য করে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

শালিসের সিদ্ধান্ত অনুসরন করে প্রেমিকা পক্ষের লোকজন বিয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকলে প্রেমিক পক্ষ শালিসের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে কিছু সংখ্যক লোকজনের সহয়োগিতায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করলে দু-পক্ষের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় বাংলাবাবু গং এর কয়েকজন আহত হয়। আহতরা গোপনে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে গা ঢাকা দেয়।

এ ছাড়া প্রেমিককে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়ে ঐ রাতেই কয়েকজন যুবক প্রেমিকার অবস্থান করা ঘরে ঢুকে তাকে ছিনতাইসহ শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে তার চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে যুবকরা পালিয়ে যায়।

পরদিন ২৫ আগস্ট দিন দুপুরে প্রেমিক পক্ষের ভাড়াটিয়া কিছু যুবক মদ্যপ অবস্থায় প্রেমিকাকে ঘর থেকে বের করে অপহরনের আবারও চেষ্টা চালালে এলাকাবাসীর সাথে সংঘর্ষ হয়।

এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও প্রেমিকা নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে গ্রাম পুলিশের পাহারায় অবস্থান করছেন। এনিয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা কর্মকর্তা ইনচার্জ এসএম আবদুস সোবহান জানান ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু এ পর্যন্ত কোন পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য