মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘূর্ণিঝড় ধ্বংসে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে বলেছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা এ ধরনের বুদ্ধি মোটেও কাজের কিছু হবে না বলে মন্তব্য করেছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্যতা নিয়ে ট্রাম্প কয়েকজন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করেছেন বলে সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইট এক্সিওস জানিয়েছে।

এ ধরনের কিছু হলে তা ‘ধ্বংসাত্মক’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া)।

অবশ্য এ ধরনের কোনো পরামর্শ দেবার কথা ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

প্রায়ই আঘাত হানা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ঘূর্ণিঝড়কে পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে মোকাবেলার এ চিন্তা অবশ্য এবারই প্রথম নয়; গত শতকের ৫০-র দশক থেকেই মানুষের মধ্যে এ নিয়ে নানান গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা রয়েছে।

এবার ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে আছড়ে পড়া ঠেকাতে আগেই কেন ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে বোমা মারা যাবে না তা জানতে চান বলে জানায় এক্সিওস।

এর প্রেক্ষিতে পরে নোয়া জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের ওপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরও ‘সম্ভবত এর গতিপথ বদলানো যাবে না’; উল্টো ঝড়ের সঙ্গে ভূমিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থও তড়িৎ গতিতে আছড়ে পড়তে পারে।

ঘূর্ণিঝড় পরিবর্তনে যে বিপুল পরিমাণ শক্তি দরকার হবে বিস্ফোরকের মাধ্যমে তা উৎপাদন করাই কঠিন হবে বলেও মত নোয়ার।

“যান্ত্রিকভাবে বোমার শক্তি ঘূর্ণিঝড়ের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলেও সেই শক্তির অর্ধেককে দুর্গম সমুদ্রের মাঝখানে একটি নির্দিষ্ট অংশে ফোকাস করা ভয়ঙ্কর দুরূহ হবে। ঘূর্ণিঝড় হয়ে ওঠার আগে দুর্বল মৌসুমী ঝড় কিংবা নিম্নচাপকে আক্রমণ করা, মোটেও আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু নয়,” বলেছে নোয়া।

সংস্থাটি জানায়, আটলান্টিক মহাসাগরে প্রতিবছর ৮০টির মতো ঝড় সৃষ্টি হয়; এর মধ্যে মাত্র ৫টি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। কোনটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে তা আগে থেকে বলার উপায় নেই।

সাধারণত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আটলান্টিকে ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম থাকে। সেপ্টেম্বরে সমুদ্রের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ হওয়ায় এ মৌসুম ‘চূড়ায়’ পৌঁছায়।

ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে এ মুহুর্তে ক্রান্তীয় ঝড় ডোরিয়ান দানা বাঁধছে; মঙ্গলবারের মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে সামনের দিনগুলোতে পুয়ের্তো রিকোর দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে।

মিয়ামির ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা এখন ডোরিয়ানের দিকেই নজর রাখছেন এবং নোয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী ‘ঘূর্ণিঝড় ও পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত’ প্রশ্ন থেকে দূরে থাকছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য