আমাজন বনাঞ্চলে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জি-৭ দেশগুলো যে অর্থ সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে বলে জানিয়েছে ব্রাজিল সরকার।

সোমবার জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আমাজনের দাবানল নিয়ন্ত্রণে জি-৭ দেশগুলো দুই কোটি ২০ লাখ ডলার দিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এই অর্থ সাহায্য প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কোনো কারণ দেখাননি ব্রাজিলের কর্মকর্তারা। তবে ফ্রান্স তাদের সঙ্গে উপনিবেশের মতো আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো।

আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েনি বলে দাবি করেছেন ব্রাজিলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফের্নান্দো আজেভেদো ই সিলভা। আমাজনে আগুন ও পরিবেশগত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ৪৪ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জি-৭ এর অর্থ সহায়তার প্রস্তাবের বিষয়ে বোলসোনারোর চিফ অব স্টাফ অনিক্স লোরেনজোনি গ্লোবো নিউজ ওয়েবসাইটকে বলেন, “ধন্যবাদ, কিন্তু সম্ভবত ওই সম্পদগুলো ইউরোপে বনায়ন করার কাজে লাগালে বেশি প্রাসঙ্গিক হবে।”

স্থানীয় বনকে কীভাবে রক্ষা করতে হয় ব্রাজিল তা ‘যে কোনো’ দেশকে শেখাতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইনপের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলে রেকর্ড সংখ্যক আগুন জ্বলছে যার অধিকাংশই আমাজন বনাঞ্চল এলাকায়।

গত সপ্তায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ আমাজনের দাবানলকে ‘আন্তর্জাতিক সংকট’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

আমাজনের দুর্দশার জন্য পরিবেশবাদীরা ব্রাজিল সরকারকেই দুষেছে। তাদের অভিযোগ, ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট বোলসোনেরোর নীতিই কৃষক, কাঠুরে ও চোরাকারবারিদের বন উজাড়ে উৎসাহ দিচ্ছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিরহরিৎ বনাঞ্চল আমাজন বিপুল পরিমাণ কার্বন সঞ্চিত রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতি খানিকটা শ্লথ রেখেছে।

৩০ লাখেরও বেশি প্রাণপ্রজাতি এবং উদ্ভিদের পাশাপাশি ১০ লাখ আদিবাসী মানুষের এ আবাসস্থলটি ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামেও পরিচিত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য