রাজশাহী সেফহোমে অপহরণ মামলার ভিকটিমের কাছে আসামীর লেখা চিঠি আটকা পড়েছে সেফহোম কর্তৃপক্ষের কাছে। নীলফামারী কারাগার থেকে আসামীর লেখা ওই চিঠি পুলিশের সহায়তায় সেফহোমে পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

সূত্রমতে, অপহরণ মামলার আসামি নীলফামারী কারাগারের হাজতি শহীদ শাহ পুলিশকে ম্যানেজ করে ওই মামলার ভিকটিম রাজশাহী সেফহোমে থাকা দিল আফরোজা ওরফে ইতির কাছে একটি পত্র পাঠায়। গত ১ আগস্ট ভিকটিম ইতির কাছে ওই চিঠি পৌছাতে গিয়ে জনৈক মহিলা আনসার সদস্যের কাছে ধরা পড়ে যায় চিঠিটি।

এ ঘটনায় চিঠি বহনকারী জেলার ডোমার উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের আবদুল মজিদের মেয়ে মনিষা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক।

জিজ্ঞাসাবাদে মনিষা জানান, নীলফামারীতে এক পুরুষ পুলিশ সদস্য পত্রটি তাকে দিয়েছে। মনিষাকে ডোমার থানার একটি মামলায় আদালতের নির্দেশে সেফহোমে পাঠানো হয়েছিল। মামলা নং ১০৩, তারিখ-২৮/০৭/২০১৯ইং।

এ ব্যাপারে অপহরণ মামলার বাদী আবুল কালাম (দিল আফরোজা ইতির মামা) জানান, দিল আফরোজা ইতির দেখা করার জন্য তার বাবা সিরাজুল ইসলাম রাজশাহী সেফহোমে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিঠির বিষয়টি তাকে অবগত করে। বাদী আরো জানান, চিঠিতে আসামি শহীদ শাহ ভিকটিমকে প্রলোভন দেখিয়ে মামলার সঠিক বিচার প্রাপ্তিতে বাধা প্রদানে চেষ্টা করছে। তিনি চিঠি প্রেরণে সহায়তাকারীদের বিচার দাবী করেন।

এ ব্যাপারে সেফহোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক জানান, সেফহোমে আসা ভিকটিমদের শরীর তল্লাশী করে ভিতরে প্রবেশ করানো হয়। মনিষার শরীর তল্লাশীতে চিঠিটি ধরা পড়ে। তিনি দাবী করেন, সেফহোমে এ ধরনের অপকর্ম করার কোন সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দপুর থানার এসআই সাহিদুর রহমান জানান, মামলার বাদী একটি চিঠি (ফটোকপি) আমাকে প্রদান করেছে। যেহেতু মামলাটি এখনও তদন্তাধীন, তাই মামলার তদন্তের সাথে চিঠির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল তিনি চিঠির বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত হবে। এতে যদি কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য যে, চলতি বছর ২৯ জানুয়ারী নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মিস্ত্রিপাড়ায় মামা বাড়ী থেকে অপহরণ হয় কলেজছাত্রী দিল আফরোজা ওরফে ইতি।

এ ঘটনায় পুলিশ ১৮ জুন অপহরণ মামলার প্রধান আসামি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানিয়াল পুকুর শাহপাড়ার শহীদ শাহকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে এবং পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক শহীদকে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

এর পাঁচদিন পর ২৪ জুন আসামি শহীদ শাহ এর গ্রাম থেকে পুলিশ উদ্ধার করে দিল আফরোজাকে। পরদিন ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আদালতের জবানবন্দি প্রদান করে এবং আদালতের নির্দেশে ভিকটিম ইতিকে রাজশাহী সেফহোমে প্রেরণ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য