আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ আর্থিক সহযোগিতা পাওয়ায় নিশ্চিত হলো মার্শাল আর্ট কন্যা সান্ত্বনা রানী রায়ের বুলগেরিয়া সফর। আর্থিক সঙ্কটের কারণে অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল তার এ সফর।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে মার্শাল আর্ট কন্যাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ।

সোমবার (১৯ আগষ্ট) বুলগেরিয়া সফর নিশ্চিত হওয়ার খবরে আনন্দিত সান্ত্বনা ও তার পরিবারের লোকজন এবং লালমনিরহাটবাসী।

মার্শাল আর্ট কন্যা সান্ত্বনা বলেন, আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমার বুলগেরিয়া সফর আর হলো না। ঠিক অন্তিম মুহূর্তে এগিয়ে আসে বিকাশ। তিনি চেষ্টা করবেন বুলগেরিয়া সফরে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে।

হেড অব বিকাশ কর্পোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম জানান, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এরই মধ্যে সাফল্য পাওয়া সান্ত্বনার এগিয়ে যাওয়া যেন থেমে না যায়, সেজন্যই তার পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছে বিকাশ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নেই এবারের বিশ্ব তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় সান্ত্বনার অংশগ্রহণ যেন নিশ্চিত হয়। আমরা তার সাফল্য কামনা করছি।

আগামী ২৪ থেকে ৩০ আগস্ট বুলগেরিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২১তম বিশ্ব আইটিএফ (ইন্টারন্যাশনাল তায়কোয়ান্দো ফাউন্ডেশন) তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতা। এতে বাংলাদেশের মার্শাল আর্ট কন্যা সান্ত্বনা রানী রায়সহ মোট পাঁচজনের একটি দল মনোনয়ন পেয়েছেন অংশগ্রহণের জন্য।

সান্ত্বনা লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের হরিদাস গ্রামের সুবাস চন্দ্র রায় ও যমুনা রানীর মেয়ে। প্রান্তিক কৃষক পরিবার মেয়ে সান্ত্বনা রানী রায় তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে বড়। রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করে এলএলবি শেষ করছেন। শৈশবে গ্রামে নিজের আত্মরক্ষার তাগিদেই হাতে-খড়ি মার্শাল আর্টের। আর সেই মার্শাল আর্টই সান্ত্বনার পথচলার সঙ্গী এখন।

সান্ত্বনা দেশে ও বিদেশে তায়কোয়ান্দো প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত আটটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছেন।

প্রসঙ্গ,আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে ২০১৪ সালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে, ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ও চলতি বছর ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে তিনি গিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য