শরীর-স্বাস্থ্য সম্পর্কে যাঁদের সামান্য সচেতনতা আছে, তাঁরা ভালোই জানেন যে আমরা যা খাই তার উপরেই নির্ভর করে শারীরিক গঠন ও সুস্থতা। কিন্তু যে বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও মোটেই ধর্তব্যের মধ্যে রাখা হয় না, তা হল খাওয়ার সময়। আপনি কখন কী খাচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে আপনার ওজন বাড়বে না কমবে। ভুল সময়ে ঠিক খাবার খেলে কিন্তু লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি। সব খাবার সব সময়ে হজমও হয় না। তাই কোন সময়ে কী খাবেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকাটা একান্ত প্রয়োজনীয়।

প্রত্যেকটা মানুষের ক্ষেত্রে এক ডায়েট প্ল্যান কাজ করতে পারে না। আপনি কখন ঘুমোতে যান, কখন ওঠেন ঘুম থেকে, সারাদিনের রুটিন কেমন, তার উপরেও অনেক কিছু নির্ভরশীল। অনেকে বলেন, সকালবেলা ব্রেকফাস্টের সময় বেশি করে কর্বোহাইড্রেট খাওয়া উচিত – এর পোশাকি নাম কার্ব লোডিং। তবে এ ব্যাপারে সবাই একমত যে, বিকেল 3টির মধ্যে দিনের বেশিরভাগ ক্যালোরি ইনটেকটা সেরে নেওয়া উচিত। সূর্যাস্তের পর থেকে ক্যালোরি খরচের হার এমনিতেই কমতে থাকে, তাই রাতের দিকে ভারী কিছু না খাওয়াই ভালো। নির্ধারিত সময়ে খেলে আপনার শরীরের স্ট্রেস কম হয়। ফলে শরীর বাড়তি ফ্যাট জমিয়ে রাখে না পরে খরচ করবে বলে।

যাঁরা ব্যায়াম করেন, তাঁরা ওয়ার্কআউটের আগে অতি অবশ্যই খানিকটা প্রোটিন খাবেন, তা ছাতু, ডিম, চিকেন, ছানা যা হোক কিছু হতে পারে। ব্যায়াম করার এক-দেড় ঘণ্টা আগে প্রোটিন খেলে মাসল মাস তৈরিতে তা কাজে লাগে, ফলে আপনি বাড়তি এনার্জি পাবেন ওয়ার্কআউটের সময়। ব্যায়াম শেষ হওয়ার পর ফের অল্প মাত্রায় প্রোটিন আর কার্বোহাইড্রেট খেতে পারেন।

যদি খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো হয়, তা হলে সারাদিনের কখনওই এনার্জিতে ঘাটতি পড়বে না। ঠিক সময়ে না খেলেই দেখবেন বিকেলের দিকে ক্লান্তি লাগছে, খিদে পাচ্ছে। হুট করে ভাজাভুজি বা মিষ্টি কিছু একটা খেয়ে ফেললে সমস্যার সমাধান হবে না – চিনির কার্যকারিতা কমে গেলেই ফের খিদে পাবে। তাই জলখাবারের পর এবং বিকেলের দিকে এমন কোনও স্ন্যাক্সের বন্দোবস্ত রাখুন যা পেট ভরায়, কিন্তু বাড়তি ক্যালোরির বোঝা চাপায় না। সম্ভব হলে পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে ডায়েট প্ল্যান তৈরি করুন। ঘুম থেকে ওঠার দু’ ঘণ্টার মধ্যে ব্রেকফাস্ট খান, রাতে শুতে যাওয়ার দু’ ঘণ্টা আগে খান ডিনার। নিয়ম মেনে চললে ঘুম ভালো হবে, নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তের শর্করাও।
-ফেমিনা

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য