আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গোলাপবাগ হাটসহ বিভিন্ন হাটে-বাজারে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল অবাধে বিক্রি হচ্ছে। আর এসব কারেন্ট জালের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে বর্তমানে বন্যার পানি কমে যাওয়ার সময় গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদী খাল-বিলে অবাধে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে। ফলে আগামীতে এ উপজেলা মৎস্য শূন্য হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ এসব কারেন্টজাল বিক্রি হলেও উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন,আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দৃঢ় কোন পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া, বাঙ্গালী নদী, নুরুলের বিল, তারদহ বিলসহ নিম্ন এলাকা খাল-বিলে এখনও যথেষ্ট পরিমান দেশি মাছ পাওয়া যায়। বর্ষায় এসব নদী-নালা, খাল-বিলে মাছ ডিম ছাড়ায় প্রচুর রেনু-পোনা জন্ম নিয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করায় নদী ছাড়াও খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয় যাচ্ছে। এ কারণে হাট-বাজারে প্রতি বছেেরর ন্যায় এ বছরও উপজেলার-গোলাপবাগ হাট সহ বিভিন্ন হাট বাজারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের জমজমাট বাজার বসছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই এসব হাট-বাজারে শুরু হয়েছে অবৈধ কারেন্ট জালের রমরমা ব্যবসা। গোলাপবাগ হাটে সপ্তাহের রোববার ও বৃহস্পতিবার হাটের দিন খোলাবাজারে প্রকাশ্যে প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ী চটি দোকান বসিয়ে, আবার কেউ দাঁড়িয়ে লক্ষাধিক টাকার কারেন্ট জাল বিক্রি করে থাকে। এ ছাড়া প্রতিদিন পাইকারী ও খুচরা লক্ষ লক্ষ টাকার কারেন্ট জাল এ হাটে বিক্রি হয়ে থাকে। এসব কারেন্ট জাল এই এলাকার দেশী মাছের ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাখালবুররুজ ইউনিয়নের অভিরামপুর গ্রামের লিটন মিয়া বলেন বন্যার পানি কমার সাথে সাথে গ্রামের মানুষ কারেন্ট জাল কিনে এনে খাল-বিল, নদী নালায় ব্যাপক হারে মাছ ধরছে। এভাবে মাছ ধরলে মাছের বংশ নির্বংশ হয়ে যাবে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্ষুদ্র জাল ব্যবসায়ী জানান, উত্তরবঙ্গের সব চেয়ে বড় কারেন্ট জালের পাইকারী ব্যবসা কেন্দ্র হলো গোবিন্দগঞ্জের গোলাপবাগ হাট। কয়েক জন ব্যবসায়ী এ হাটে কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জালের পাইকারীর ব্যবসা বরে থাকেন। এহাট থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা মূল্যের কারেন্ট জাল ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা পাইকারী মূল্যে কিনে নিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে বাজারে খুচলা বিক্রি করে থাকে। গোবিন্দগঞ্জ পৌর সভার কালিকাডোবা গ্রামের কহিনুর বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমি সহ গ্রামের আনেকেই গোলাপবাগ হাট থেকে কারেন্টজাল কিনে এনে তা সাজিয়ে বিক্রি করি। এবছর বন্যা ও ব্যপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় ডোবা খালবিল নদীনালা সর্বত্র পানিতে ভরে যায়। সর্বত্র পানি থাকায় সাজনো কারেন্টজাল বিক্রি করে আমরা লাভবান হয়েছি।

উপজেলা মৎস্য সমিতির নেতা আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, এই এলাকার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া, বাঙ্গালী নদী এবং উপজেলার সব চাইতে বড় মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত নুরুলের বিলসহ ছোটবড় সকল জলাশয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে প্রায় সব ধরণের মাছকেই সমূলে ধ্বংস করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ হলেও সহজে এবং প্রকাশ্যে এসব জাল পাওয়া যাওয়ার কারণে মানুষ তাদের অজান্তেই মৎস্য সম্পদের বিরাট ক্ষতি সাধন করছে। ফলে আগামীতে এ উপজেলা মৎস্য শূন্য হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।

এব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মুমু বলেন, আমি কিছুদিন আগে এ উপজেলায় যোগদান করেছি। তাই অনেক কিছুই জানিনা। তবুও মৎস্য সপ্তাহে অভিযান পরিচালনা করে কারেন্টজাল পুড়িয়েছি। এ ব্যাপারে ভবিষ্যতে সবকিছু জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সচেতন এলাকাবাসীর দাবি অবৈধ কারেন্টজালের গুদাম ও হাটে-বাজার থেকে কারেন্টজাল উদ্ধার এবং এ সেন্ডিকেটের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের অতিদ্রুত গ্রেফতার সহ শাস্তি প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে স্থানীয় প্রশাসন,আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্মকর্তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য