কুড়িগ্রামের উলিপুরে বুড়িতিস্তা নদীর উপর নির্মিত শত বছরের একটি ব্রীজ হুমকির মুখে রয়েছে। যেকোন মহুর্তে ব্রিজটি ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে পৌরসভাসহ উপজেলার ২টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ টি গ্রামের মানুষজন।

ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়বে এসব এলাকার স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রিসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপুরি গ্রামে ১৯২৫ সালের দিকে তৎকালীন সরকার মানুষের যাতাযাতের জন্য বুড়িতিস্তা নদির উপর ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে ব্রিজটি নির্মান করেন।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে ব্রীজটির উপর দিয়ে যানচলাচল করলেও বুড়িতিস্তা নদী খনন করা হলে তা আরো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজটির নীচের মাটি সরে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হলে ফেøারের পাঁকা অংশ ধসে যায়। এ অবস্থায় ব্রিজটির উইং ওয়ালের ইট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে ব্রিজের পাটাতন পাশের মাটির উপর আটকে আছে। ফলে যেকোন মহুর্তে ব্রীজটি ভেঙ্গে পড়ে প্রানহাণির আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

ওই এলাকার আব্দুর রহিম(৭৫), কেরামত আলী(৬২)সহ অনেকে বলেন, বহু বছর আগে ব্রিজটি নির্মান করা হয়। প্রতিদিন এ ব্রীজের উপর দিয়ে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রিসহ শত শত যানযাহন ঝুকি নিয়েই চলাচল করছে। ব্রিজটি ভেঙ্গে গেলে উলিপুর পৌরসভাসহ দলদলিয়া ও থেতরাই ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, পাতিলাপুর, ঘাটিয়াল পাড়া, টাপু, কিশোরপুর, অর্জুনসহ ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে দূর্ভোগের মধ্যে পড়তে হবে।

অপরদিকে উলিপুর পৌরসভার নারিকেল বাড়ী গ্রামে বুড়িতিস্তা নদীর উপর ১৯৬৪ সালে নির্মিত ব্রীজটিও একই অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোন মহুর্তে ব্রিজটি ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ন ব্রীজ দু’টি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন মন্টু ও ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকার পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে দ্রুত ব্রিজটি নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য