দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ইচ্ছে থাকলে কর্ম দিয়ে রাষ্ট্র জয় করা যায়। তারই জ্বলন্ত উদাহরণ ড্রাইভার ফারুক হোসেন। তাঁর উদ্দীপনা এবং অসাধারণ কর্মময় শিক্ষা অনুরাগ এ সমাজকে দিয়েছে নতুনত্ব। তিনি নীরবে দিনাজপুরের গ্রামে ঘুরে ঘুরে কিংবা কোন স্কুলে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। সমাজের কাছে দায়বদ্ধতা সবারই রয়েছে! এমনই দায়বদ্ধতা কাঁধে নিয়ে সমাজ বিনির্মাণে নীরবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আলোকিত মুখ শিক্ষার ফেরিওয়ালা খ্যাত ড্রাইভার ফারুক হোসেন।

শনিবার সকাল ১১টায় তার প্রচেষ্ঠায় দিনাজপুর সদরের হরিহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরন বিতরন করলেন শিক্ষা পদকপ্রাপ্ত ড্রাইভার ফারুক।

আয়োজিত শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রকৌশলী জহুরুল হক। অন্যান্যের মাঝে ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ্ মোছাঃ জাহানে-ই গুলশান, হরিহরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শরমিন আক্তার, সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেন প্রমুখ।

অসহায় ও বঞ্চিত, দরিদ্র শিশু-বয়স্কদের হাতে বিনামুল্যে বই-খাতা-কলমসহ বিভিন্ন উপকরন তুলে দিয়ে নীরবে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন এক যুগেরও বেশী সময় থেকে ড্রাইভার ফারুক। এই তরুণ নিজের উপার্জনের ২৫% টাকা অসহায় ও ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় করে আসছেন। আর তাকে এ কাজে সহযোগিতা করছেন তারই সহধর্মিনী ছাবেরা আক্তার।

১৯৯৭ সালে শিক্ষা উপকরন দিয়ে অভাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তা করা শুরু করলেও ২০০৫ সালে গ্রামের সর্বত্র এটা ছড়িয়ে দিয়েছেন।

চলতি বছরের ১৩ মার্চে প্রাথমিক শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে দিনাজপুরের গ্রামাঞ্চলে বিশেষ অবদান রাখার পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর সদর উপজেলার কাশিমপুর(মালিপুকুর) গ্রামের এই তরুণ ড্রাইভার ফারুক হোসেনকে শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী হিসেবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদ্বোধনকালে পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, নিজ পরিবারের অভাবের তাড়নায় শিক্ষা বঞ্চিত এই যুবক অস্টম শ্রেণী পাশের পর আর পড়ালেখা করার সুযোগ পায়নি। সংসারে সহায়তার জন্য তাই গাড়ী ড্রাইভার বাবা মাহবুব হোসেন এর কর্মস্থল বিএডিসি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরনে ফারুক বস্তা টানার কাজ নেয়। পরে সবার আন্তরিকতা ও গাড়ী চালানায় প্রশিক্ষন ও দক্ষ হলে সে ড্রাইভারের কাজ নেয়। বিএডিসি’র ড্রাইভার ফারুক জানায়, বাবা মারা গেছে। এখন বোন, ভাই, মা ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য