যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনলান্ড কিনে নিতে চান বলে খবর প্রকাশের পর এমন সম্ভাবনা নাকচ করেছে দ্বীপটি। ‘এ দ্বীপ বিক্রির জন্য নয়’ বলে সাফ জানিয়েছে গ্রিনল্যান্ড।

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান লোন বাগার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, “আমরা বিকোব না, তবে ব্যাবসা করতে চাইলে আমাদের দ্বার খোলা আছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের পরিসর বাড়াতে গ্রিনল্যান্ড দ্বীপ কিনে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন ট্রাম্প। এ নিয়ে তিনি গোপনে তার সহযোগী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত সুবৃহৎ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বশাসিত অঞ্চল। ফলে দ্বীপটি কেনার ট্রাম্পের চিন্তাধারাকে তার কয়েকজন উপদেষ্টা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন। যদিও হোয়াইট হাউজ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারেই নিয়েছে।

ওদিকে, ডেনমার্ক ট্রাম্পের এ চিন্তাধারাকে উদ্ভট বলে মন্তব্য করেছে। ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন টুইটারে বলেছেন, “বিষয়টি অসময়ে এপ্রিল ফুল জোক এর মতই ব্যাপার।”

ড্যানিশ পিপলস পার্টির পররাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র সোরেন এসপারসন বলেছেন, “ট্রাম্প সত্যিই এটি ভেবে থাকলে এটি চূড়ান্ত ভাবেই প্রমাণ হয়ে গেল যে তিনি পাগল হয়ে গেছেন।”

“ডেনমার্ক ৫০ হাজার নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেচে দেবে এমন চিন্তা করা উদ্ভট”।

গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। দ্বীপটি নিজেদের অভ্যন্তরীন বিষয়গুলো নিজেরা সামাল দিলেও ডেনমার্ক তাদের প্রতিরক্ষা এবং বৈদেশিক নীতি দেখভাল করে।

গ্রিনল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম পার্টি এআই এর ড্যানিশ এমপি আজা কেমিজ লারসেন রয়টার্সকে বলেছেন, “আমি নিশ্চিত যে, গ্রিনল্যান্ডের বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা ভাল। সুতরাং এ মূর্হতে আমি যা বলতে পারি তা হচ্ছে “না, ধন্যবাদ।”

কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দান সামরিক বিমান ঘাঁটি রয়েছে গ্রিনলান্ডে।

দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান এবং এর খনিজ সম্পদের কারণে চীন রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় শক্তির দেশগুলোর নজরপড়ছে এর ওপর।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য