পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে আফগান তালেবান নেতার ভাইসহ অন্তত চার জন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার কোয়েটার ২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমের এ ঘটনায় মসজিদটির ইমামও নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি; পুলিশের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বোমা বিস্ফোরণের সময় তালেবান নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা মসজিদটিতে ছিলেন না, কিন্তু তার ছোট ভাই হাফিজ আহমদুল্লাহ নিহতদের মধ্যে আছেন বলে তালেবানের দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

পরিচয় প্রকাশে রাজি না হওয়া এক জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা বলেছেন, “বোমা বিস্ফোরণে শেখ হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার ছোট ভাইকে হারিয়েছি আমরা।”

বিস্ফোরণে আখুন্দজাদার ছেলেও আতহ হয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আফগান তালেবান সদস্যদের আনাগোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ ও সংলগ্ন মাদ্রাসাটি পরিচিত ছিল। আখুন্দজাদা এখানে পড়াতেন ও মাঝে মাঝে নামাজের ইমামতি করতেন বলে তালেবানের ওই জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। এই হামলার কারণে আফগান যুদ্ধ শেষ করার উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তালেবান প্রতিনিধিদের শান্তি আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকাকালে হামলাটি চালানো হলো। দুপক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তিটি হলে পাকিস্তানের প্রতিবেশী আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্যদের প্রত্যাহার করা হতে পারে।

পাকিস্তানের পুলিশ হতাহত কারও পরিচয় নিশ্চিত করেনি।

কোয়েটার পুলিশ প্রধান আব্দুল রাজ্জাক চীমা বলেছেন, “ইমামের বসার কাঠের চেয়ারের নিচে পেতে রাখা একটি টাইম বোমা ছিল এটি।”

বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এমন একটি সূত্র জানিয়েছে, মসজিদটিতে সবসময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।

বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী ও জঙ্গিদের তৎপরতা থাকলেও পাকিস্তানের অনেকের ধারণা এই বিস্ফোরণের পেছনে তালেবানের সঙ্গে লড়াইরত আফগানিস্তান সরকারের হাত আছে।

এ বিষয়ে আফগানিস্তান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য