জম্মু-কাশ্মির সরকার সেখানকার কারাবন্দীদের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশের আগ্রার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করছে। শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এপর্যন্ত দু’দফায় ৯০ জনকে বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে কাশ্মির থেকে আগ্রায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ‘আজতক’ হিন্দি নিউজ ওয়েব চ্যানেল ওই তথ্য জানিয়েছে।

গত (বৃহস্পতিবার) প্রথম দফায় ৭০ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী বন্দিকে আগ্রার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। গতকাল (শুক্রবার) আরও ২০ জনকে স্থানান্তর করা হয়। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এসব বন্দীদের আগ্রা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।বন্দিদের স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে আগ্রা কেন্দ্রীয় কারাগারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

কাশ্মির উপত্যকা থেকে বন্দিদের অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে আগ্রা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যাতে কোনও সমস্যা সৃষ্টি না হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ৭০ জন বন্দিকে নিয়ে প্রথম বিমান আগ্রার খেরিয়া বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের কারাগারে তাদেরকে স্থানান্তর করা হয়।পুলিশ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। কারাগারের বাইরে অতিরিক্ত জওয়ান, পিএসি ও সোয়াট বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

জম্মু-কাশ্মির থেকে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই উপত্যকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেখানে আধাসামরিক বাহিনীর কয়েক হাজার অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাহ সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতাদের গৃহবন্দি, ও গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। ব্যাপক ধরপাকড়ের ফলে সেখানকার কারাগারগুলোতে কার্যত জায়গা নেই।

এ ব্যাপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ভারতে যারা সংসদীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করে সেই সমস্ত দলের নেতাদের যখন শ্রীনগরে যেতে দেয়া হচ্ছে না, তখন এটা স্বাভাবিকভাবে বোঝা যায় যে কাশ্মিরের কী পরিস্থিতি এবং সেখানকার মানুষদের কী অবস্থা।

মানুষকে না খাইয়ে গুলি করে, পেলেটগান নিক্ষেপ করে কাশ্মিরকে এত বছর ধরে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে আজ তা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। কাশ্মিরে এ পর্যন্ত ৯৮ হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন তাদের স্বাধীনতার জন্য। কাশ্মিরের লড়াই হল স্বাধীনতার লড়াই। তারা ভারত ও পাকিস্তান কারও সঙ্গে থাকতে চায় না। তারা স্বাধীন দেশ হিসেবে থাকতে চায়। স্বাধীনতার লড়াইকে, স্বাধীনতার স্বপ্নকে লাখ লাখ, কোটি কোটি সেনা পাঠিয়ে দমন করা যায় না বলে ভানু সরকার মন্তব্য করেন।

‘জেলে থাকুক আর জেলের বাইরে থাকুক, প্রত্যেক কাশ্মিরিই আজ আক্রমণের মুখে। কাশ্মির ও প্যালেস্টাইন উন্মুক্ত বন্দী শিবির। সবটাই কারাগার শুধু মাথার উপরে ছাদ নেই’ বলেও ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার মন্তব্য করেন।
পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য