জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন প্রত্যাহার করার ভারতীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়ার অঙ্গীকার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

ভারতের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি, জানিয়েছে বিবিসি।

ভারত কাশ্মীরীদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে পারে, তিনি এমন আশঙ্কা করছেন বলেও জানিয়েছেন ইমরান। সোমবার ভারতের সরকার যে সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেছে সে বিষয়ে ‘বিশ্বকে জানাতে’ চান বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইমরান বলেন, “জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আমরা এখন এটি পর্যালোচনা করে দেখছি, এটি সাধারণ পরিষদে তুলবো আমরা, সব ফোরামেই রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করবো, এটি গণমাধ্যমে তুলে ধরবো এবং বিশ্বকে জানাবো।”

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করার মাধ্যমে ভারত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক চেহারা পরিবর্তনের সুযোগ পাবে, তিনি এমনটি মনে করছেন বলে জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

“আমি শঙ্কিত, এখন কাশ্মীরে জাতিগত নির্মূল করা শুরু হতে পারে। তারা স্থানীয়দের সরিয়ে অন্যদের এনে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ বানাতে পারে, যেন স্থানীয়রা দাসে পরিণত হয়,” বলেন তিনি।

এর আগে পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাপ্রধান জানান, তার সৈন্যরা কাশ্মীরীদের ‘ন্যায্য সংগ্রামে’ তাদের পাশে থাকবে।

প্রতিবেশী চীনও ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বর্ণনা করে এর বিরোধিতা করবে বলে জানিয়েছে।

ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর থেকে অঞ্চলটি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। কাশ্মীরের টেলিযোগাযোগ ও গণমাধ্যম বন্ধ রাখা হয়েছে, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কারফিউ।

ইতোমধ্যেই ভারতের শাসনে অসন্তুষ্ট কাশ্মীরীরা ‘বিশেষ মর্যাদা’ বাতিলের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের প্রতিবাদ শুরু করতে পারে, এমন আশঙ্কায় এসব ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরজুড়ে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

রাজ্যটির অল্প কয়েকটি সচল টেলিফোন লাইনের একটি ব্যবহার করতে সক্ষম হওয়া বিবিসির শ্রীনগর প্রতিনিধি আমীর পরীজাদা জানিয়েছেন, তিনি যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাদের মধ্যে স্পষ্ট ক্রোধের লক্ষণ দেখেছেন তিনি, বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন তারা।

কোথাও কোথাও প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় নেতাদের বন্দি করে রাখা হয়েছে।

ভারতের অন্যান্য অংশে থাকা কাশ্মীরীরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

সোমবার ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে সেখানে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর অতিরিক্ত আরও আট হাজার সেনা তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ইতোমধ্যেই কাশ্মীর বিশ্বের অন্যতম সামরিকায়িত অঞ্চল হয়ে উঠেছে।

১৯৪৭ এর পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে এলেও নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদ এখন অঞ্চলটির আলাদা দুটি অংশের নিয়ন্ত্রক।

ভারতশাসিত অংশে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন সংগঠনের তৎপরতা বিদ্যমান, যাতে প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার লোক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য