বর্ণবাদকে হালকা চোখে দেখে কিংবা বিদ্বেষ উসকে দেয় এমন নেতাদের দেয়া ভাষ্য প্রত্যাখ্যান করতে মার্কিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

টেক্সাস ও ওহাইওতো ‘ম্যাস শুটিংয়ে’ ৩১ জনের মৃত্যুর পর সোমবার তিনি এ আহ্বান জানান।

ওবামা তার মন্তব্যে কারও নাম উল্লেখ করেননি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

শনিবার দুই অঙ্গরাজ্যে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বন্দুকধারীর গুলির ঘটনার জন্য ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের’ দায়ী করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতি এসব সহিংসতায় হাওয়া দিচ্ছে বলেও অভিযোগ অনেকের।

ট্রাম্প এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবার এক বক্তৃতায় তিনি ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ’ ও বিদ্বেষের রাজনীতির নিন্দাও জানিয়েছেন।

বিবিসি বলছে, ৮ বছরের দায়িত্বকালে ওবামা যেসব কাজে ব্যর্থ হয়েছেন, তার মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ অন্যতম। ২০১৫ সালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই ব্যর্থতাকে প্রেসিডেন্টের মেয়াদকালে তার সবচেয়ে বড় হতাশা হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন এ ডেমোক্রেট।

অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন বিতর্কিত কথাবার্তায় ওবামাকে কখনোই প্রতিক্রিয়া দেখাতে না দেখা গেলেও সোমবার এ ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রসূত রাজনীতি নিয়ে বিবৃতি দেন তিনি।

“ভয়ের পরিবেশ ও ঘৃণা উসকে দেয় এবং বর্ণবাদ বিষয়ক অনুভূতিকে হালকা চোখে দেখে; আমাদের মতো দেখতে নয়, এমন মানুষদেরকে যারা দানব হিসেবে হাজির করে; কিংবা অভিবাসীসহ অন্যরা আমাদের জীবনধারার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে বলে ইঙ্গিত করে, অন্যদের অসম্পূ্র্ণ মানুষ ভাবে কিংবা আমেরিকায় কেবল সুনির্দিষ্ট এক ধরনের মানুষই থাকতে পারবে এমনটা বোঝায় যে নেতারা- আমাদের যে কোনো নেতার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা এমন ভাষা সশব্দে প্রত্যাখ্যান করা উচিত,” বলেন ওবামা।

মার্কিনিদের দৈনন্দিন জীবন ও রাজনীতিতে এদের কোনো স্থান নেই বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এ প্রেসিডেন্ট।

“সব জাতির, বিশ্বাসের এবং সব রাজনৈতিক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মার্কিনিদের স্বার্থেই স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে এ কথা বলার সময় এসেছে,” বলেন তিনি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওবামা সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম না বললেও তিনি মূলত ট্রাম্প ও তার প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করেই এগুলো বলেছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প মেক্সিকানদের মাদক পাচারকারী, অপরাধী ও ধর্ষক হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ভিন্ন বর্ণের চার কংগ্রেসওম্যানকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলেও তিনি সম্প্রতি কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

ডেমোক্রেটরা প্রেসিডেন্টের ওই বক্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ অ্যাখ্যা দিলেও ট্রাম্প তা অস্বীকার করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য