সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে দেওয়া জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় রাজনীতিবিদ কমল হাসান। পার্লামেন্টে এই মর্যাদা বাতিলের পদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করেন তামিল নাড়ুর রাজনৈতিক দল মাক্কাল নিধি মাইয়াম (এমএনএম)-এর এই প্রতিষ্ঠাতা। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ওই পদ্ধতিকে চরম প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়েছেন এক সময়ে দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় এই অভিনেতা।

ভারতীয় সংবিধানের যে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে কাশ্মিরকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিলো, সোমবার সেটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ ঘোষণা দেন তিনি। পরে ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিরোধীদের তীব্র বাধা ও বাগ-বিতন্ডার মধ্যেই জম্মু-কাশ্মির রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত দুইটি অঞ্চলে পরিণত করার বিলটি পাস হয়।

কমল হাসান বলেছেন, জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও এ রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত দুইটি অঞ্চলে পরিণত করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ছিলো ‘গণতন্ত্রের ওপর স্পষ্ট আঘাত’। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত চরম প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বৈরাচারী। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ ও ৩৫-এ এর একটি ভিত্তি আছে। তবে যেকোনও পরিবর্তন হতে হবে অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমে’।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের দাবি, অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে কাশ্মিরকে একীভূত করা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করতে রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কেন্দ্রশাসিত দুইটি অঞ্চলে ভাগের বিল পাস করা হয়েছে। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই সংক্রান্ত বিল পার্লামেন্টে তোলার আগে বিশ্লেষণের জন্য সময় দেওয়া হয়নি। পার্লামেন্টে পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই বিলটি পাস করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার।

বিরোধী দলগুলো সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘গণতন্ত্র হত্যা’ আখ্যা দিয়ে বলছে, কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের কারণে এ অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি ঘটবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য