মাসুদ রানা পলক,ঠাকুরগাঁওঃ সপ্তাহ খানেক পরেই কুরবানীর ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কামার পাড়ার কামার রা। কেউ ভারি হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছেন দগদগে লাল লোহার খন্ড। কেউ শান দিচ্ছেন, কেউবা আবার কয়লার আগুনে বাতাস দিচ্ছেন। এক রকম প্রতিযোগীতা মুখর কাজ করছে কামারিরা। পাল্লা দিয়ে কাজে করছেন তারা।

কুরবানীর ঈদে গরু, ছাগল ও উট কুরবানীর পশু হিসেবে জবাই করা হবে। আর এসব পশুর গোস্ত কাটতে দা, বটি, চুরি, ও চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার অপরিহার্য। এজন্য গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় দা, বটি, চুরি, ও চাপাতি শান দিতে। এদিকে ধাতব সরঞ্জামাদী শান দিতে কামার পাড়াগুলোতে ভিড় বাড়ছে সাধারণ মানুষের। ভ্রাম্যমান কামাররা চষে বেড়াচ্ছে ছোট-বড় বিভিন্ন হাট-বাজার।

আগামী ১২ আগস্ট সোমবার কুরবানীর ঈদের তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় দা-ছুরি সংস্কারের জন্য জেলা-উপজেলা বাসী ইতোমধ্যে ভিড় করছেন কামারের কাছে। কেউ দাম-দর করছেন বাজার বোঝার জন্য কেউবা কিনে নিচ্ছেন পছন্দের দা-ছুরি।

আজ সোমবার সদর উপজেলার মাদারগঞ্জ হাট এলাকায় কামারশালা ঘুরে দেখা যায় এক ধরনের ফুরফুরে মেজাজেই ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। কেউ তৈরি করছেন দা, কেউ বা তৈরি করছেন চাপাতি আবার কেউ কেউ তৈরি করছেন ছুরি। আর এসব জিনিস সারিবদ্ধভাবে দোকানের সামনে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চাপাতি ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, দা ২০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, কড়াল প্রতি কেজি ২৫০ টাকা, চাকু ৫০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, খুন্তি ২৫ টাকা, হাতা ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে কামারশালায়।

নারায়ণ কর্মকার জানান, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে এ পেশায় নিয়োজিত। ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছি। আগে প্রতিদিন আমার ৪০০ টাকা বিক্রি হতো, এখন ১৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ও জিনিস বিক্রি হচ্ছে। এবার ঈদে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। আমাদের এখানে বিক্রি সব সময়ই ভালো হয়। তবে সামনে কোরবানি উপলক্ষে বিক্রি একটু বেশি।

জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার সেনুয়া গ্রাামের বাঁধন আহমেদ নামের ক্রেতা বলেন, কয়েক দিন পরেই তো কোরবানির ঈদ। আগে থেকে সব কিনে রাখছি। যাতে পরে অসুবিধা না হয়। এসময় ভালো মানের দা-ছুরির প্রয়োজন হয়। এখানে ভালো মানের দা-ছুরি পাওয়া যায়। তাই কিনতে এসেছি।

কথা হলো আরেক ক্রেতা সদর উপজেলার বিশ্বাষপুর গ্রামের মোঃ সোহেলের সাথে তিনি বাসা থেকে দা, বটি, চাক্কু সান দিতে এসেছেন। তিনি বলেন সাতদিন পরেই ঈদ। তাই দরকারি সব চাক্কু ছুরি সান দিয়ে রেডি করে রাখছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য