কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার এবার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু না এলেও দেশীয় গরু দিয়েই জমে উঠেছে তিনটি বড় বড় কোরবানির পশুর হাট। হাটে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের খামারি ও গৃহস্থ এবার ভালো দামের আশা করছেন। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেশের পশু পর্যাপ্ত আছে। কোরবানিতে পশুর সংকট হবে না।

সরেজমিনে, খরিবাড়ী হাট, বালারহাট ও ফুলবাড়ী বাজারের হেলিপ্যাড হাটে এসব দেশীয় গরু বেচাকেনা করতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বড় পশুর হাট হলো সীমান্ত ঘেঁষা বালারহাট। এখানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ভিড়তে দেখা যাচ্ছে। হাটে ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর সরবরাহ সবচেয়ে বেশি। ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে মিলছে পছন্দের গরু।

বালারহাটে গিয়ে দেখা গেছে, এখানে কোনো ভারতীয় গরু নেই। শুধু দেশীয় গরু দিয়ে জমে উঠেছে পুরো হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ঢলে মুখরিত বালাহাট বাজার। ইজারাদার আইয়ুব আলী জানান, কোনো ঝামেলা ছাড়াই পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা আনন্দ উৎসবের মধ্যে তাদের পছন্দের পশু কিনেছেন। মঙ্গলবার ও শনিবার এই দুই হাট মিলে ২৮০টি গরু ও তিনশটি ছাগল বেচা-কেনা হয়েছে। তবে ভারতীয় গরু আসলে এর কয়েক গুণ বেশি বেচা-কেনা হতো।
গরু বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম বন্ধন জানান, কোনো ঝামেলা ছাড়াই বাড়ির একটি গরু ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। হাটে বিভিন্ন জায়গা থেকে দেশি গরু বিক্রেতা ও স্থানীয় খামারিরা জানান, এ বছর ভারতীয় গরু না আসায় গরুর দাম ভালই পেয়েছি।

নোয়াখালী থেকে বালারহাট বাজারে গরু কিনতে আসা মৌসুমী ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন, জসিম উদ্দিন, সামচুল হক ও জব্বার আলী জানান, আমরা প্রতি বছর কোরবানি ঈদে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন হাটে গরু কিনতে আসি। আমাদের এলাকার চেয়ে তুলনামূলক কম দামে এ সব বাজারে ভালো মানের দেশীয় গরু পাওয়া যায়। তাই অধিক মুনাফার আশায় প্রতি বছরেই এসব বাজার থেকে ট্রাক ভর্তি গরু কিনে এলাকায় নিয়ে সরবরাহ করি।

ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনিচুর রহমান জানান, উপজেলায় আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ২৪ জন খামারি ও শত শত গৃহস্থ বাড়িতে দেশি গরু লালন-পালন করছে। এবারে ঈদে ষাঁড় পাঁচ হাজার ৮৩০টি, মহিষ ১১টি, ছাগল তিন হাজার ৮০টি ও ভ্যাড়া ছাগল ৯৭০টি প্রস্তুত আছে।

অনেক আগে থেকেই উপজেলার খামারি ও গৃহস্থদের কোনো প্রকার ওষুধ প্রয়োগ না করার পরামর্শসহ সরেজমিনে তদারকি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে কোরবানির পশুর হাট গুলোতে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য