দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ব্যক্তি মালিকানার জমি পৌরসভার দাবি করে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারসহ এলাকাবাসী। শুধু তাই নয়, উচ্চ আদালতে মামলা থাকা সত্বেও কোন প্রকার নোটিশ না দিয়েই ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ করেছেন তারা।

৩ আগষ্ট শনিবার বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বীরগঞ্জ উপজেলার হাটখোলা নামক এলাকায় মহাসড়কের পার্শ্বে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ও এলাকাবাসী। এ সময় জমির মালিক মোজাফফর রহমান, ভাই মোস্তাফিজুর রহমান, পিতা সোলায়মান সরকার, মা মফিজা বেগম, স্থানীয় দোকানদার আনসারুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জমির মালিক মোজাফফর রহমান জানান, ১৯৯৮ সালে স্থানীয় আব্দুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসানের কাছ থেকে বীরগঞ্জ উপজেলার হাটখোলা এলাকার ১০ শতক জমি ক্রয় করেন তিনি। ওই জমিটি ২০০০ সালের এপ্রিল মাসে পেরিফেরী করে হাটের তালিকাভুক্ত করে প্রশাসন। কিন্তু কোন প্রকার ক্ষতিপুরন প্রদান করা হয়নি। ক্ষতিপুরন ছাড়াই পেরিফেরী করার পাশাপাশি খাজনা নেয়া বন্ধ করে দেয় ভুমি অফিস। পরে গত ২০১৬ সালে জমির উপর নির্মিত বাড়ি ভাঙ্গার জন্য দখল ছেড়ে দিতে নোটিশ দেয় বীরগঞ্জ পৌরসভা। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই সালে উচ্চ আদালতে রীট করেন তিনি। এই মামলা চলমান থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই গত ৩১ জুলাই পৌরসভা ওই জমির উপর নির্মিত ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোশাররফ হোসেন বাবুল জমি থেকে বসবাসরত ঘরবাড়ি না ভাঙ্গার জন্য এবং মিমাংসা করার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চেয়েছিল। কিন্তু না দেয়ার কারনে এই ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

মোজাফফর রহমানের বাবা সোলায়মান সরকার বলেন, কিভাবে একটি মালিকানাধীন বাড়ি ভেঙ্গে ফেলা হলো। আমাদেরকে বলা হয়েছে বাড়িটি সরকারের। আমার কথা, আমার জমি বুঝে দিয়ে সরকার কোথায় কিভাবে নিবে তা নির্ধারন করুক। কিন্তু এভাবে মামলা থাকা ও কাগজপত্র আমাদের পক্ষে থাকা সত্বেও নোটিশ ছাড়াই ভেঙ্গে ফেলা কি অন্যায় নয়? আমি এই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ক্ষতিপুরন দাবি করছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য