চুল ওঠা বন্ধ করার জন্য তো কতরকমেরই নিয়ম মানেন আপনি! নিয়ম করে তেল, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, সপ্তাহে একদিন হেয়ার মাস্ক, সবই চুলের স্বাস্থ্যের জন্য, অথচ তা সত্ত্বেও প্রতিবার চিরুনি চালানোর সঙ্গে সঙ্গেই উঠে আসে গোছা গোছা চুল! তা হলে কি চুল আঁচড়ানোর সঠিক নিয়মগুলো মানছেন না আপনি? আজ্ঞে হ্যাঁ, শুনতে আশ্চর্য লাগলেও চুল আঁচড়ানো বা ব্রাশ করারও কিছু পদ্ধতি আছে, যেগুলো মেনে চললে চুল ভেঙে ঝরে যাওয়া, ডগা ফাটা, জট পড়ার মতো অনেকগুলো সমস্যা এড়িয়ে চলতে পারবেন আপনি!

কীভাবে চুল আঁচড়াবেন?
খচখচ করে খানিক চিরুনি বা ব্রাশ চালিয়ে দিলেন আর চুল আঁচড়ানো হয়ে গেল, ব্যাপারটা অতটাও সহজ নয় কিন্তু! আপনার চুলের দৈর্ঘ্য আর টেক্সচার অনুযায়ী চিরুনি চালানোর কায়দাটা রপ্ত করতে হবে। তবে মা-ঠাকুমাদের নিদান মেনে চুলে একশোবার চিরুনি চালাবেন না যেন! অতিরিক্ত চিরুনি বা ব্রাশ চালালে চুলের ক্ষতিই হয় বেশি।

সুস্থ আর চুল আঁচড়ানোর সময় মনে রাখুন কিছু সহজ টিপস আর দূরে রাখুন চুলের বহু সমস্যাকে!

জট ছাড়ান সাবধানে
চুল রুক্ষ থাকলে বা নোংরা জমে গিয়ে জট পড়তে পারে। কখনও গায়ের জোরে টেনে টেনে জট ছাড়াবেন না। হেয়ার ব্রাশ নয়, চুলের জট ছাড়াতে চিরুনিই ভালো। চুলের গোড়ার দিক থেকে জট ছাড়াতে শুরু করবেন না কখনও। বরং নিচের দিক থেকে ছোট ছোট অংশে চুল নিয়ে আঁচড়ে জট ছাড়ান। নিচের দিকের জট আগে ছাড়ান, তারপর ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠুন।

তাড়াহুড়ো করবেন না
চুলের জট ছাড়ানোর জন্য দরকার ধৈর্য। তাড়াহুড়োয় হ্যাঁচকা টানে চিরুনি চালালে জট কতটা ছাড়াতে পারবেন তার ঠিক নেই, তবে গোছা গোছা চুল উঠে আসবে, এটা নিশ্চিত! তাতে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যাবে। ধীরে ধীরে আঙুল চালিয়ে জটগুলো ছাড়িয়ে নিন।

অতিরিক্ত চিরুনি বা ব্রাশ ব্যবহার করবেন না
চুলে বেশিবার চিরুনি চালালে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হয় বেশি। অতিরিক্ত ঘর্ষণে চুলের কিউটিকল ভেঙে যায়, তাতে চুল বিবর্ণ আর ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। চুল জটমুক্ত আর মসৃণ হয়ে গেলেই যথেষ্ট, আর বেশি আঁচড়ানোর দরকার নেই।

শুকনো অবস্থায় ওয়েভি বা কোঁকড়া চুল আঁচড়াবেন না
কোঁকড়া বা ওয়েভি চুল স্বাভাবিকভাবেই বেশি শুষ্ক প্রকৃতির হয়। শুকনো অবস্থায় এই চুল আঁচড়ালে চুল ভেঙে ঝরে যেতে পারে, চুলের ডগাও ফেটে যায়। এধরনের চুল একটু ভিজিয়ে নিয়ে তবেই আঁচড়ান।

চিরুনি বাছুন ভেবেচিন্তে
একই চিরুনি সব ধরনের চুলের পক্ষে মানানসই নয়। রুক্ষ, মোটা চুলে যেমন চিরুনি দরকার হয়, সূক্ষ্ম, পাতলা চুলে তেমন চিরুনি চলবে না। তাই নিজের চুলের সঙ্গে মানানসই চিরুনি খুঁজে নেওয়া দরকার। কোঁকড়া চুলের জন্য মোটা দাঁড়ার চিরুনি বেছে নিন, পাতলা, সূক্ষ্ম চুলের জন্য আপনার দরকার নরম আর নমনীয় দাঁড়ার ব্রাশ। উপযুক্ত ব্রাশ বা চিরুনি ব্যবহার করলে চুল বশেও থাকবে, সুন্দরও থাকবে!

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য