ভবিষ্যতে হংকং-এর কাছে সামরিক সরঞ্জাম ও ভিড় নিয়ন্ত্রণকারী উপকরণ বিক্রি বন্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একটি গ্রুপ। ট্রাম্প প্রশাসনকে লেখা এক চিঠিতে এই আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেসের মানবাধিকার কমিশনের দুই চেয়ারম্যান। সম্প্রতি সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে হংকং-এর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এমন আহ্বান জানালেন মার্কিন আইন প্রণেতারা।
বিক্ষোভকারীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে হংতং পুলিশের বিরুদ্ধে

এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যামতিনি। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকেরা।

এই সপ্তাহে হংকং-এর গণতন্ত্রপন্থী অ্যাকটিভিস্ট টুইটারে রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাসের ব্যবহৃত খোলসের ছবি প্রকাশ করে জানান সেগুলো বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যবহার করেছে পুলিশ। টুইটারে তিনি লেখেন, এই সব অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিনে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস আচরণের অভিযোগ রয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

এমন পরিস্থিতিতে সেখানকার কর্তৃপক্ষের কাছে সামরিক সরঞ্জাম ও ভিড় নিয়ন্ত্রণকারী উপকরণ বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানালেন মার্কিন আইন প্রণেতারা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রসকে চিঠি দিয়ে এই আহ্বান জানান কংগ্রেসের কংগ্রেসের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ক্রিস্টোফার স্মিথ ও জেমস ম্যাকগভার্ন।

ওই চিঠিতে তারা লেখেন, ‘আমরা আপনাদের কাছে ভবিষ্যতে হংকং পুলিশ বাহিনীর কাছে সামরিক সরঞ্জাম ও ভিড় ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী উপকরণ বিক্রি বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আরও চাই যে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ঘোষণা দিক যে তারা হংকং-এর শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অভ্যন্তরীন নিপীড়নে কোনও ভূমিকা রাখবে না’। হংকং ও চীনা কর্তৃপক্ষ গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভকে দাঙ্গা হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইছে এবং নিজেদের সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করতে চাইছে বলে ওই চিঠিতে অভিযোগ করেন মার্কিন আইনপ্রনেতারা। হংকং ও চীনা কর্তৃপক্ষের এই তৎপরতা ঠেকাতে দুই মন্ত্রীকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় চিঠিতে।

তবে আইন প্রণেতাদের এই চিঠির বিষয়ে তাৎক্ষনিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

প্রসঙ্গত, কংগ্রেসের মানবাধিকার কমিশন ৪০ জনেরও বেশি আইন প্রণেতাদের নিয়ে গঠিত। এই কমিশনে বর্তমানে যৌথভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন রিপাবলিকান সদস্য ক্রিস্টোফার স্মিথ ও ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমস ম্যাকগভার্ন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য