৩১ জুলাই ছিটমহল বিনিময়ের ৪ বছর পেরিয়ে পদার্পণ করেছে ৫ বছরে। বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার উন্নয়নে অনেক খুশি স্থানীয়রা। এ উপলক্ষে দাসয়ার ছড়ায় রাত ১২টা ১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দিবসটির উদ্বোধন করেছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মো. জাফর আলী। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান শেখ, সহ-সভাপতি শাহাজাহান মিয়া বদশা, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সরকার, জেলা পরিষদ সদস্য কাজী নাজমুল হুদা লাল, মাহবুবা বেগম লাভলী, কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ নুর বখ্ত প্রমুখ। এছাড়াও দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপর করেন বিলুপ্ত ছিটবাসী।

ছিটমহলবাসীর দীর্ঘ ৬৮ বছরের অন্ধকার জীবনের অবসান ঘটিয়ে পেয়েছেন শতভাগ বিদ্যুতায়ন, প্রশস্ত পাকা রাস্তা, সরকারি উদ্যোগে নির্মিত মসজিদ, মন্দির, বিটিসিএল কর্তৃক অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ, ডিজিটাল সেন্টার, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ সকল প্রকার নাগরিকসেবা।

বিগত ৪ বছরে বিশেষ বরাদ্দে দাসিয়ারছড়ায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৫০ হাজার টাকা ব্যায়ে ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এলজিইডির মাধ্যমে ২৪ কিলোমিটার পাকা রাস্তা তৈরী, ২০ লাখ টাকায় কালির হাটে কমিউনিটি রিসোর্স সেন্টার, ৯০ লাখ টাকায় ৫টি মসজিদ, ২০ লাখ টাকায় একটি মন্দির, ২ কোটি ১৯ লাখ টাকায় নীলকমল নদীর উপর একটি ব্রিজ এবং ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ১০টি হত দরিদ্র পরিবারের বসতবাড়ি।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠা হয়েছে কাংলাদেশ শিশু একাডেমির ১৫টি প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ১৪টি মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্র, ৫টি হাইস্কুল, ১টি মাদরাসা ও একটি কলেজ। তবে উন্নয়নের ভিড়ে স্কুল কলেজ ও মাদরাসাগুলো এমপিও ভুক্তি না হওয়ায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে এসব এমপিওভুক্তি বেকার সমস্যা সমাধোনের দাবি জানান ছিটবাসী। এছাড়াও যেসব কাঁচা রাস্তা রয়েছে সেগুলো পাকাকরণ এবং ছিটমহল বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হওয়ার আগে নিরাপত্তার জন্য যারা আনছার বাহিনী ছিলেন তাদেরকে বহাল রেখে সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করাররও দাবি জানান।

উন্নয়নে খুশি হয়েই দিনটিকে প্রতিবছর আনুষ্ঠানিভাবে পালন করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করেন দিনটি। ১ আগস্ট সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিলুপ্ত ছিটমহলের উন্নয়ন ও চাওয়া পাওয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা, ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, হা-ডু-ডু, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য