ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে দখলীকৃত ভূখণ্ডে আরও ছয় হাজার ইহুদি বসতি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এ অনুমোদন দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি প্রক্রিয়ার নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সফরে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইহুদি ধর্মবলম্বী জামাতা জ্যারেড কুশনার। বুধবার তার ইসরায়েল সফরের কথা রয়েছে। ওই সফরকে সামনে রেখেই মঙ্গলবার রাতে নতুন করে এসব অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমতি দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে মঙ্গলবার এক বসতি স্থাপন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি চিরকাল থাকবে। কোনও সেটেলার বা বসতি উচ্ছেদ করা হবে না। এই ইস্যুর সমাধান হয়ে গেছে এবং বসতি স্থায়ী হবে। ইসরায়েলের মাটিতে কোনও বসতি উচ্ছেদ হবে না। আমরা নিজেদের শেকড় আরও গভীর, শক্তিশালী ও স্থায়ী করে তুলবো।

ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল। ১৯৬৭ সালের আরব যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে। ফিলিস্তিনিরা চায় পশ্চিম তীরে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী বানাতে। পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অবিভাজ্য রাজধানী বলে দাবি করে থাকে ইসরায়েল।

অবশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয় না। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধভাবে নির্মিত ১০০টিরও বেশি বসতিতে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ইসরায়েলি বসবাস করে। এই দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনতার প্রতিরোধকে সন্ত্রাসবাদ আখ্যা দিয়ে আসছে ইসরায়েল।

পশ্চিম তীরের বাইরে জেরুজালেমেও বাড়ছে অবৈধ বসতি নির্মাণ। সেখানকার স্থানীয় আরবদের ভবন তৈরির অনুমতি না দিলেও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ক্ষেত্রে সেটা প্রযোজ্য হয় না। ফলে সেখানেও বাড়ছে দখলদারদের সংখ্যা। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ইসরায়েলের অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন প্রক্রিয়ার গতি বেড়েছে। আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন সবচেয়ে বেশি ইসরায়েলবান্ধব হিসেবে পরিচিত। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য