মানবপাচারকারীদের কবলে পড়া ছয় রোহিঙ্গাকে থাইল্যান্ডের শঙ্খলার হাত ইয়াই এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে উদ্ধার করেছে সেদেশের পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ। কোনও কিছু না খেয়েই পাঁচদিন ধরে ওই ভবনে পড়েছিল উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা। পুলিশকে তারা জানিয়েছে, মানবপাচারকারীরা মোট ৩৭ জন রোহিঙ্গাকে থাইল্যান্ডে পাচার করেছে। অপর ৩১ জন রোহিঙ্গার সন্ধানে আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য থাইজার-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দীর্ঘদিন রাখাইন রাজ্যে বসবাস করলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে মিয়ানমার। ২০১২ সালে রাখাইনে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর লাখো রোহিঙ্গাকে সাগরপথে বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে পালাতে দেখা গেছে। অনেকে আবার তখন মানব পাচারকারীদের কবলেও পড়েছে। ২০১৫ সালে সাগরপথে দলবদ্ধভাবে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। সে সময় আন্দামান সাগর হয়ে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিল। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। রোহিঙ্গাদের বড় অংশটি বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও কারও কারও প্রচেষ্টা থাকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার। আর তা করতে গিয়ে প্রায়ই মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়তে হয় তাদের। এবার তেমনই এক রোহিঙ্গা দলকে শঙ্খলা এলাকার পরিত্যক্ত ভবন থেকে উদ্ধার করেছে থাই পুলিশ।

উদ্ধারকৃত রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন মানবপাচারকারীদের এক এজেন্ট তাদেরকে ওই ভবনে রেখে গেছে। সে এজেন্ট বলে গেছে, তাদেরকে আর কোথাও নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না, তারা যেন থাই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকে। পাঁচদিন ধরে অনাহারে থাকার পর গত সোমবার (২৯ জুলাই) পরিত্যক্ত ভবন থেকে বের হয়ে আশেপাশের এলাকায় বসবাসরতদের কাছে খাবার চাইতে থাকে তারা। তাদের সহায়তার চেষ্টা করে আশেপাশের গ্রামবাসী। এক পর্যায়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

মানবপাচারের শিকার হওয়া অপরাপর রোহিঙ্গাদের খুঁজতে তল্লাশি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চিলড্রেন উমেন ফ্যামিলিজ প্রটেকশন অ্যান্ড এন্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং সেন্টারের পুলিশ জেনারেল সুচার্ট থিরাসাওয়াত। এলাকায় কোনও রোহিঙ্গা দেখতে পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানোর জন্য স্থানীয়দেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য