দিনাজপুর সংবাদাতাঃ সচেতন নাগরিক কমিটি(সনাক), দিনাজপুর এর উদ্যোগে ‘‘জলবায়ু অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা’’ ৩১ জুলাই সকাল ১১.০০টায় এলজিইডি ভবন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ বৈশিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় পৃথিবীর ঝুকিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। সরকারের গঠিত জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্ট তহবিল ও দাতা সংস্থা কর্তৃক প্রাপ্ত অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শুদ্ধাচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামত নিশ্চিত করার লক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সনাক উপদেষ্টা প্রফেসর এ কে এম বদরুজ্জামান চৌধুরী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ হাজেরা হাসান, সহ-সভাপতি, সনাক দিনাজপুর।

অনুষ্ঠানে “জলবায়ু অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণঃ চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা” শীর্ষক উপস্থাপনা করেন টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মোঃ আব্দুল হান্নান আজাদ।

সংশ্লিষ্ট বিষয়কে সামনে রেখে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিভাগীয় বন কর্মকতা মোঃ আব্দুর রহমান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী এলজিইডি মোঃ রেজাউর রহমান, জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ মোখলেছুর রহমান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বাপাউবো মোঃ মনছুর রহমান শাহ, সহকারী প্রকৌশলী সওজ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এলজিএডি মোঃ নুরুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাপাইবো এ টি এম ছাইফুল ইসলাম, মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষি অধিদপ্তর মোঃ শামীম আশরাফ, ব্র্যাকের জেলা প্রতিনিধি মোঃ মহসিন আলী ।

বক্তারা জানান, বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব, সে অনুযায়ী উপযোগী ফসলাদি চাষাবাদ করা এবং নদী খননের মাধ্যমে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

জলবায়ু অর্থায়নে ক্ষতিপ্রস্থ এলাকার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাজগপত্র দাখিল করার পরও রাজনৈতিকভাবে জোড়ালো যোগাযোগ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যে প্রকল্পে কাজ করা হচ্ছে তার জন্য অর্থ ছাড়ের বেলায়ও বিভিন্ন স্তরে অর্থ উৎকোচ হিসেবে প্রদান করতে হয় বলে প্রকল্পের টাকায় সঠিক কাজ বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দারিদ্রপীড়িত জনসমষ্টি এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু বিষয়ক অর্থায়ন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ, বাংলাদেশের অভিযোজন তহবিলের ঘাটতি, বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে অনিশ্চয়তা, প্যারিস চুক্তিতে জলবায়ু অভিযোজনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে তহবিল বরাদ্ধের ঘাটতি, জলবায়ূ তহবিলে সুশাসনের ঘাটতির কারণ ও ফলাফল এবং তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভার উপস্থিত ছিলেন, এলজিইডি, জনস্বাস্থ্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য প্রকৌশলীবৃন্দ, মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ, সনাক সদস্য লাইলা চৌধুরী ও ইয়েস সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য